আপনি নিজের শিশুকে এইভাবে ধরেন না তো! সাবধান! জেনে নিন শিশুকে ধরার ৮টি নিরাপদ স্থান

নিজস্ব প্রতিবেদন: শিশুর জন্মের পরে কিন্তু বাবা মা এদের দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে যায়। কিভাবে তাকে মানুষ করা হবে থেকে শুরু করে কখন খাওয়ানো হবে বা কিভাবে পরিচর্যা করতে হবে সবকিছু নিয়েই কিন্তু থাকে নানান ধরনের প্রশ্ন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু দেখা যায় শিশুর জন্মের পরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে থাকেন নতুন অভিভাবকেরা। প্রতিটি পিতামাতাই তাদের শিশুকে কোলে ধরে রাখার সময় এক প্রকার ভালোবাসা মিশ্রিত ভয়ের অনুভূতি অনুভব করেন।

কমবেশি হয়তো এটা সকলের সাথেই হয়েছে যে মনে হয় যে ভুলবশত আপনার হাত থেকে যদি শিশু পড়ে যায়! প্রথমেই জানিয়ে রাখি যে এই সময় কিন্তু আপনাকে যথেষ্ট শান্ত থাকতে হবে যাতে আপনি শিশুকে ভালোভাবে যত্ন সহকারে করে রাখতে পারেন। তারপর আমরা চলে যাব প্রতিবেদনের মূল পর্বে যেখানে আজ আলোচনা করতে চলেছি কিভাবে এবং কোন অবস্থায় শিশুকে ধরে রাখাটা নিরাপদ তা নিয়ে! চলুন তাহলে দেরি না করে আজকের প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

নবজাতককে ধরার আগে বিশেষ কিছু করণীয় জিনিস:

১) বাচ্চা কোলে নেওয়ার আগে অবশ্যই কিন্তু আপনাদের কে হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিন্তু খুবই অপরিণত অবস্থায় থাকে সুতরাং যাতে কোনো রকমের সংক্রমণ না ছড়িয়ে যায় তাই স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অপরিহার্য। হাত ধুয়ে ফেলার জন্য হালকা সাবান এবং গরম জল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও রয়েছে স্যানিটাইজার।

২) নবজাতককে কোলে নেওয়ার আগে কিন্তু আপনি মানসিকভাবে নিজেকে স্থির করে নেবেন। দেখবেন প্রথমে একটু ভয় লাগলোও ধীরে ধীরে কিন্তু আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে এবং আপনি মানিয়ে নেবেন। যখন নবজাতকদের কোলে নেবেন তখন কিন্তু মাথা আর ঘাড় ধরে রাখার মধ্যে একটা ব্যালেন্স আপনাদেরকে বজায় রাখতে হবে। তাই অবশ্যই কিন্তু শিশুর মাথা এবং ঘাড়ের পেশী গুলির উপর আপনাদের একটা ভালো নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে অন্ততপক্ষে যতদিন না তার বয়স ৩ মাস হয়ে যাচ্ছে।

শিশুকে কোলে নেওয়ার উপায়:

একটি শিশুকে ধরে রাখতে হলে প্রথমে আপনাকে তাকে তুলে নিতে হবে। তারপর একটি হাত মাথার নিচে এবং অন্য হাতটি নিচে রাখুন। এরপর বুকের অঞ্চলে শরীর বাড়িয়ে দিন। যতক্ষণ আপনি শিশুর ঘাড় আর মাথা ধরে রাখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন ততক্ষণ এই অবস্থানে কিন্তু আপনি ধরে রাখতে পারবেন।

শিশুকে কোলে নেওয়ার বিভিন্ন অবস্থান:

১) কাঁধ ধরে রাখা:

একটি শিশুকে কাঁধে ধরে রাখার কিন্তু বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে। এটি আপনার নবজাতকের জন্য সবচেয়ে প্রাকৃতিক ধারক গুলির মধ্যে একটি। শিশুর শরীর আপনার শরীরের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে রেখে তাকে আপনাকে কাঁধের উচ্চতায় তুলতে হবে। তারপর তার মাথা আপনার কাঁধে রাখুন যাতে সে আপনার পেছনে তাকাতে পারে। এক হাত দিয়ে তার মাথা এবং ঘাড় সমর্থন করুন এবং অন্য হাত দিয়ে নিচে।

২) দোলনা অবস্থান:

দোলনা অবস্থানে কিন্তু শিশুকে রাখা খুবই সহজ আর স্বাভাবিক। এভাবে আপনি খুব সহজেই নবজাতককে ঘুম পাড়াতে পারবেন। এর জন্য আপনার বুকের সমান্তরালে আপনার শিশুর সাথে মাথা আর ঘাড় কে আপনাদের রাখতে হবে। এরপর নিচের অংশ থেকে আপনার হাতটিকে স্লাইড করতে হবে। শিশুর মাথাটি আপনার কনুইয়ের দিকে আলতো করে ধরে রাখুন এবং আপনার হাত ঘাড় থেকে নিচে এবং নিতম্বের দিকে নিয়ে যান। এভাবে কিন্তু শিশু দ্রুত ঘুমিয়ে যাবে।

৩) পেটের অবস্থানে রাখা:

এইভাবে যদি আপনি আপনার শিশুকে কোলে রাখেন তাহলে কিন্তু বাচ্চারা এটা অনেকটাই উপভোগ করবে। তার জন্য কোন এর উপর মাথা রেখে আপনার একটি বাহুতে পেটের দিকে মুখ করে শিশুকে শুইয়ে দিতে হবে। তার পা আপনার হাতের উভয় পাশে মাটির স্তরের কাছাকাছি একটি কোণে রেখে দিন। এবার আপনার অন্য হাতটি শিশুর পিঠে রাখুন যাতে সে নিরাপদ বোধ করে।

৪) হিপ হোল্ড:

এই পদ্ধতিতে শিশুকে ধরে রাখার জন্য শিশুর মাথা এবং ঘাড়ের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে হবে আপনাকে। তবে শিশুর তিন মাস বয়স না হলে কিন্তু এটা করবেন না। এই ক্ষেত্রে আপনার শিশুর মুখ বাইরের দিকে করুন এবং তাকে আপনার নিতম্বের হাড়ের উপর বসান। আপনি তার কোমরের চারপাশে আপনার হাত মুড়িয়ে রাখুন এবং তাকে চারপাশের দৃশ্যগুলি দেখতে দিন।

৫) মুখোমুখি হোল্ড:

যদি আপনারা শিশুকে এভাবে ধরে রাখেন সে ক্ষেত্রে কিন্তু এটি আপনার সাথে শিশুর সংযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করবে। এর জন্য এক হাত দিয়ে আপনার শিশুর মাথা এবং ঘাড় ধরে রাখতে হবে এবং অন্য হাতটি দিয়ে তার নিচে সমর্থন করতে হবে। এবার শিশুটিকে বুকের ঠিক নিচে আপনার দিকে মুখ করে ধরুন এবং তার সাথে মজা করুন। দেখবেন আপনার শিশু এই অবস্থান দারুন উপভোগ করবে।

৬) চেয়ার হোল্ড:

এই পদ্ধতিতে আপনার শিশুকে পেছনে হেলান দিয়ে আপনার বুকে বিশ্রাম করতে দিন যাতে তার মাথা সঠিকভাবে থাকে। পাশের দিকে ঝুঁকতে বাধা দেওয়ার জন্য তার বুক জুড়ে হাত রাখুন। আপনার অন্য হাতটি তার নিচে রাখুন। তবে এই অবস্থানটিও কিন্তু তিন মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য একেবারেই ঠিক নয়।

৭) ফুটবল হোল্ড:

এই পদ্ধতিতে আপনারা খুব সহজেই শিশুকে খাওয়াতে পারবেন। এর জন্য আপনার হাত দিয়ে আপনার শিশুর ঘাড় এবং মাথা এবং আপনার একই বাহু দিয়ে তার পিঠের অংশটিকে সমর্থ্য করুন। শিশুটিকে আপনার শরীরের পেছনদিকে কুকরিয়ে রাখুন এবং তার পা পেছনে প্রসারিত করুন।

৮) ল্যাপ হোল্ড:

যদি আপনি শিশুকে বোতলে দুধ খাইয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে কিন্তু অবশ্যই এই অবস্থান টি ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে বসার সময় আপনার পা শক্তভাবে মাটির স্তরে রাখুন এবং আপনার শিশুকে কোলে নিন। শিশুর মাথা আপনার হাঁটুর কাছে থাকবে এবং মুখ উপরের দিকে। তাকে ধরে রাখার জন্য আপনার উভয় হাত মাথার নিচে রাখুন এবং আপনার বাহুগুলি সমস্ত শরীর বরাবর রাখুন। তার পা আপনার কোমরের অঞ্চলে ঢুকতে দিন।।

শিশুকে খাওয়ানোর পরে কোন অবস্থানে রাখবেন?

শিশুকে খাওয়ানোর সময় বা খাওয়ানোর পরে উপরিলিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী ফুটবল হোল্ড করে রাখার চেষ্টা করবেন।। যদি বাচ্চাকে আপনি ধরে রাখার সময় নার্ভাস হয়ে যান সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনাকে বসার অবস্থান বেছে নিতে হবে। আপনার যদি শিশুর ওজন বহন করার মতন শক্তি না থাকে তাহলে কিন্তু যতদূর সম্ভব চেষ্টা করবেন তাকে বসেই করে নেওয়ার। সবশেষে বলবো রান্না করার সময় বা গরম কিছু বহন করার সময় কোন মতেই বাচ্চাকে কোলে রাখবেন না। সিঁড়ি থেকে নামা বা ওঠার সময় শিশুকে ধরে রাখতে অবশ্যই দুটো হাত ব্যবহার করবেন।

Back to top button