প্রতিদিনের নাস্তায় কি বানাবেন! আলু ও চালের গুঁড়ো দিয়ে ঝটপট তৈরি করে ফেলুন দারুণ টেস্টি এই নাস্তা

নিজস্ব প্রতিবেদন: শীতকালের সন্ধ্যায় মুখরোচক খাবারের জন্য সকলের মনটাই কিন্তু আনচান করতে থাকে। একটু মুখরোচক কোন টিফিন করার পর গরম গরম ধোঁয়া ওঠা চা যেন শীতের সন্ধ্যেকে জমিয়ে দেয়। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তাই পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটি এমন রেসিপি শেয়ার করে নিতে চলেছি যা কমবেশি সকলেই কিন্তু খেতে পছন্দ করবেন। চলুন তাহলে সময় নষ্ট না করে কিভাবে স্টেপ বাই স্টেপে রেসিপিটি আপনারা বাড়িতে তৈরি করতে পারবেন সেই প্রসঙ্গে জেনে নেওয়া যাক।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

১) আলু
২) গাজর
৩) পেঁয়াজ কুচি
৪) ক্যাপসিকাম কুচি
৫) কাঁচা লঙ্কা কুচি
৬) চালের গুঁড়ো
৭) আটা
৮)গোটা জিরে
৯) শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো
১০)হলুদ গুঁড়ো
১১)নুন
১২)গোটা জিরে
১৩)গরম মশলার গুঁড়ো
১৪) চাট মশলা
১৫) জোয়ান
১৬) লেবুর রস
১৭) আদা বাটা
১৮) রসুন বাটা
১৯) সাদা তেল্

রেসিপি তৈরি করার প্রণালী:

অসাধারণ স্বাদের এই জলখাবারের রেসিপিটি তৈরি করার জন্য আপনাদের প্রথমেই একটা বোলের মধ্যে কয়েকটি উপকরণ নিয়ে নিতে হবে। উপকরণ গুলি হল রেসিপি তৈরি করার জন্য প্রথমে একটি মিক্সিং বোলে ১টি ছোট সাইজের পেঁয়াজ কুচি, ৩ থেকে ৪টি কাঁচা লঙ্কা কুচি, ক্যাপসিকাম কুচি, ১/২ চা চামচ নুন, ১/২ চা চামচ গোটা জিরে, ১ চা চামচ আদা-রসুন বাটা, ১/২ চা চামচ শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ গরম মশলার গুঁড়ো, ১/২৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো এবং এক চা চামচ লেবুর রস। সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

এরপর একটি গ্রেটারের সাহায্যে দুটি আলু কে ভালোভাবে গ্রেট করে নেবেন। এবার গ্রেট করে নেওয়া এই আলু গুলোকে জলে ভালোভাবে ধুয়ে চিপে তুলে নিয়ে আসুন এবং জল ঝরিয়ে নিন। আলুর মতন করে একটা বড় গাজর ও গ্রেট করে নেবেন।। শুরুতেই যে মসলার মিশ্রনটি তৈরি করে রেখেছিলেন তাতে ভালোভাবে গ্রেট করে নেওয়া আলু আর গাজর মিশিয়ে নিন।

আরো একটি মিক্সিং বোলের মধ্যে /২ চা চামচ নুন, ১/২ চা চামচ শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ চাট মশলা, ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো নিয়ে অল্প অল্প করে জল নিয়ে নিন। এই সমস্ত উপকরণ যোগ করে একটা ব্যাটার তৈরি করে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন ব্যাটার যেন পাতলা হয়। এটি তৈরি করা হয়ে গেলে অন্য একটা পাত্র নিয়ে নিন এবং তার মধ্যে ২ কাপ পরিমাণ আটা, সামান্য পরিমাণ নুন, ১/২ চা চামচ জোয়ান ও ১ চা চামচ সাদা তেল সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে তারপর জল দিয়ে আটা মেখে একটা নরম ডো তৈরি করে ফেলুন চটজলদি।

মিনিট পাঁচেক সময় এই ডো রেস্টে রেখে দিন এবং তারপরে তিনটি বড় মাপের লেচি কেটে নিয়ে লেচি গুলো বড় রুটির আকারে বেলে নিতে হবে। এখন বেলে নেওয়া রুটির উপর দু থেকে তিন ফোঁটা জল দিয়ে সেটা হাত দিয়ে ভালোভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। এখন রুটির উপর ২-৩ ফোঁটা জল দিয়ে হাতের সাহায্যে রুটির চারিপাশে মাখিয়ে নেবেন।

আমাদের চলে আসতে হবে রান্নার পরবর্তী ধাপে। শুরুতেই যে আলু আর গাজরের মিশ্রণটা তৈরি করে রেখেছিলেন সেই মিশ্রণটাকে এবার নিয়ে নিন এবং রুটির উপর ছড়িয়ে ফেলুন।ওই রুটিটির উপর আরেকটি রুটি দিয়ে আবারো ২-৩ ফোঁটা জল হাত দিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

আবার কিছুটা আলু গাজরের মিশ্রণ দিয়ে তার উপর দিয়ে আরেকটি রুটি চাপা দিয়ে আবারো সামান্য পরিমাণ জল দিয়ে ভালো করে রুটি বসিয়ে নিতে হবে।এর উপর আবারো রুটির উপর কিছুটা আলু গাজরের মিশ্রণ দিয়ে তিনটে রুটি একসঙ্গে সুন্দর করে রোল করে ফেলুন। দু দিক থেকে ভাঁজ করে রোল করবেন তাহলে কিন্তু আপনাদের সুবিধে হবে।।

গ্যাসে একটা কড়াই বসিয়ে দিন এবং তাতে দু গ্লাস পরিমাণ জল দিন। জল যখন কিছুটা ফুটে উঠবে তারপর কড়াইয়ের উপর একটি স্ট্যান্ড বসিয়ে তার উপর আলু-গাজরের পুর দিয়ে তৈরি করে রাখা রুটির প্লেটটি কড়াইয়ের ভিতর স্ট্যান্ডের উপর বসিয়ে ৫ মিনিটের জন্য কড়াই ঢেকে রাখুন। এরপর মিনিট পাঁচেক সময় পরে স্নাক্সটা বের করে আপনাদের পিস করে কেটে নিতে হবে।

এখন যে ব্যাটার তৈরি করে রেখেছিলেন তার মধ্যে এই পিসগুলোকে চুবিয়ে নিন। সবশেষে করাইতে কিছুটা পরিমাণ তেল গরম করে এগুলোকে ভালোভাবে ভেজে নিলেই কিন্তু তৈরি হয়ে যাবে সন্ধ্যার মুখরোচক নাস্তা। সহজেই গরম চায়ের সাথে আপনারা এটা পরিবেশন করতে পারেন।। বাড়িতে কোন অতিথি আসার কথা থাকলেও আপনারা এগুলো চটজলদি বানিয়ে রেখে দিতে পারেন।

Back to top button