আপনার শিশুকে মেধাবী করতে চান? জেনে নিন একজন নিউরো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাড়িতে শিশুর জন্মের পরেই তার যত্ন এবং তাকে মানুষ করা নিয়ে কিন্তু বাবা মায়েদের বেশ চিন্তার মুখোমুখি হতে হয়।। শিশুকে কিভাবে পড়াশুনা শেখানো হবে! কিভাবে তাকে প্রকৃত মানুষ করে তোলা হবে বা কিভাবে হয়ে উঠবে শিশু মেধাবী সবকিছু নিয়েই কিন্তু থাকে নানান ধরনের চিন্তা। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তাই আপনাদের সাথে একটি বিশেষ তথ্য শেয়ার করে নিতে চলেছি।

যারা শিশুদের জন্মের পরে তাদের বৃদ্ধি আর মেধাবী হওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা অবশ্যই আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে পারেন। আশা করছি এর মধ্যে থাকা তথ্য আপনাদের ভালো লাগবে। প্রসঙ্গত একটা শিশুর মানসিক বিকাশ কিন্তু অনেক কিছুর উপরেই নির্ভর করে থাকে। শুধুমাত্র পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নয় তার মস্তিষ্কের নিউরনের উপরেও শিশুর মেধার বৃদ্ধি নির্ভর করে থাকে।

  • নিউরো বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য:

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা যা যা নিয়ে আলোচনা করব তার পুরোটাই কিন্তু বিশিষ্ট কিছু নিউরো বিশেষজ্ঞের কথা অনুসারে। প্রথমেই জানিয়ে রাখি যে, আমাদের মস্তিষ্কে প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন রয়েছে। প্রত্যেকটি নিউরন তাৎক্ষণিকভাবে পঞ্চাশ হাজার নিউরনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সক্ষম হয়ে থাকে।

এগুলি একে অন্যের সাথে ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল সিগন্যাল প্রসেসের মাধ্যমে জুলিওন ট্রিলিয়ন সংযোগ স্থাপন করে। এর ফলস্বরূপ বাড়ন্ত বয়সে শিশুর মস্তিষ্কের নিউরণ সমূহ একে অন্যের সাথে খুব দ্রুত সংযোগ স্থাপন করে। এই সময় যদি মস্তিষ্কের মধ্যে থাকা নিউরনসমূহকে উদ্দীপ্ত করা যায় সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক নিউরন সার্কিট এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হতে পারে।

এই ক্রিয়ার ফলে কিন্তু শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কয়েক গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে যদি এই নিউরন সমূহকে উদ্দীপ্ত না করা যায়, এক্ষেত্রে কিন্তু ধীরে ধীরে নিউরন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং মস্তিষ্কের বিকাশ আর কার্যক্ষমতাও অনেকটাই হ্রাস পেয়ে যায়। পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি একজন শিশুর মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা কিন্তু পূর্ণবয়স্ক মানুষের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি।। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ক্ষমতা কিন্তু ক্রমশ কমতে থাকে। সাম্প্রতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সামনে এসেছে যে, আব্যাকাস ব্যবহারে শিশুর মস্তিষ্কের নিউরনগুলির কর্মচঞ্চল্য বৃদ্ধি পায়।

এর ফলস্বরূপ সর্বোচ্চ সংখ্যক নিউরণ সার্কিট এর মধ্যে একটি আত্মঃসংযোগ তৈরি হয়। এর ফলেই সৃষ্টি হয় একটি শক্তিশালী মস্তিষ্কের। অর্থাৎ প্রত্যেকটি সুস্থ ও স্বাভাবিক শিশুর সঠিক সময়ে আর সঠিক পদ্ধতির সাহায্যে কিন্তু মস্তিষ্কের সম্পূর্ণরূপে বিকাশ ঘটানো সম্ভব বলেই মনে করা হয়। তবে অবশ্যই এর জন্য সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। তাহলে আপনার শিশুও কিন্তু বিশ্বের অন্যতম মেধাবী মানুষদের মধ্যে একসময় নিজের নাম লিখিয়ে নিতে পারবে।

Back to top button