বাড়িতে থাকা তুলসী গাছ খুব অল্প দিনেই বাড়বে দ্বিগুণ হারে! শুধুমাত্র ব্যবহার করুন এই ৭টি গোপন ট্রিকস

নিজস্ব প্রতিবেদন: হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের বাড়িতে একটি অত্যন্ত পবিত্র আর শুভ গাছ বলতে কিন্তু আমরা প্রথমেই তুলসী গাছের কথা বলতে পারি। প্রায় কমবেশি আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই কিন্তু তুলসী গাছ রয়েছে। তবে বাড়িতে শুধু তুলসী গাছ রাখলেই নয় তার পরিচর্যার দিকেও কিন্তু আপনাদের বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে।। শুরুতেই জানিয়ে রাখি, তুলসী গাছ সবসময় বাড়ির ঈশান কোণে রাখা উচিত।

এই কোণকে তুলসী গাছ রাখার জন্য শুভ বলে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি তুলসী গাছ কিন্তু অবশ্যই বাড়িতে একেবারে সতেজ অবস্থায় রাখতে হবে। এই গাছ শুকনো অবস্থায় কিন্তু বাড়িতে একেবারেই রাখা উচিত নয়। স্বাভাবিকভাবেই যে কোন গাছকে যদি আপনারা সতেজ আর সুন্দর রাখতে চান তাহলে তার কিছু পরিচর্যা প্রয়োজন।

তুলসী গাছ ও কিন্তু তার ব্যাতিক্রম নয়। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেব ৭ টি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যাপার যেগুলো যদি আপনারা ঠিকভাবে লক্ষ্য রাখেন তাহলে খুব দ্রুত তুলসী গাছ বৃদ্ধি পাবে এবং সব সময় সতেজ থাকবে। চলুন আর দেরি না করে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

তুলসী গাছের পরিচর্যার বিশেষ কয়েকটি পদ্ধতি:

১) যদি উপযুক্ত মাটির সাথে তুলসী গাছ ভালো করে লাগানো যায় তাহলে কিন্তু এটা কখনোই শুকিয়ে যাবে না, আর সতেজ থাকবে। আমরা অনেক সময় তুলসী গাছের গোড়ায় বেশি জল দিয়ে থাকি যার কারণে এতে ফাঙ্গাস হয়ে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই অবশ্যই আপনাকে কিন্তু গাছের মাটি তৈরি করার সময় তাতে কিছুটা পরিমাণ বালি দিয়ে দিতে হবে। মোটামুটি ৭০% মাটির সঙ্গে আপনাকে বালি মিশিয়ে নিতে হবে। এই বালি খুব ভালো ড্রেনেজের কাজ করবে। এরপর সার হিসেবে আপনারা গরুর গোবর ব্যবহার করতে পারেন।

২) তুলসী গাছ বাড়িতে লাগানোর সময় আপনাদের অবশ্যই ভালো মানের একটি টব নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন টব যেন লম্বাটে ধরনের হয় আর অবশ্যই তার মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিদ্র থাকে।

৩) গাছে যখন জল দেবেন তখন সামান্য পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম সালফেট আপনারা এখানে মিশিয়ে দিতে পারেন। তবে শুধুমাত্র তুলসী গাছের ক্ষেত্রে নয় অন্যান্য গাছের ক্ষেত্রেও কিন্তু এটাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা গাছকে ক্লোরোফিল উৎপাদনে সাহায্য করবে, পাশাপাশি সতেজ রাখবে। তবে মোটামুটি গাছ বড় হবার কুড়ি থেকে ২১ দিন পরে এটা কে আপনাদের সেখানে দিতে হবে।

৪) অবশ্যই কিন্তু তুলসী গাছের মাথার অংশ আপনাদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভেঙ্গে দিতে হবে। তাহলে কিন্তু গাছের বৃদ্ধি আটকে থাকবে না। অবশ্যই কিছুদিন অন্তর অন্তর সময় করে এই কাজটা আপনাদের করতে হবে।

৫) পাঁচ নাম্বারে আমরা বলব তুলসী গাছের মঞ্জরী ছেঁটে দেওয়ার কথা। গাছের ওই ছোট ছোট শাখা প্রশাখা কেটে দেওয়ার মতন এটা কেউ কিন্তু কিছুদিন অন্তর আপনাদেরকে ছেটে দিতে হবে। তবে অবশ্যই মাথায় রাখবেন রাতের বেলায় আপনারা এই কাজ করবেন না। ভোরবেলায় অথবা দিনের বেলায় গাছের মঞ্জরী ছাটার কাজ করবেন।

৬) তুলসী গাছে কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দেয়। তাই অবশ্যই কিন্তু আপনাকে সেটার হাত থেকেও গাছকে রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে শীতকালে এই গাছের পাতায় কিন্তু পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে আপনারা গাছের উপরে নিম তেল স্প্রে করতে পারেন। সম্পূর্ণভাবে অর্গানিক এই তেলটি আপনারা সহজেই বাজারে পেয়ে যাবেন। এক লিটার জলের বোতলের মধ্যে মোটামুটি 8 থেকে 10 ফোঁটা নিম তেল মিশিয়ে আপনাদের গাছে স্প্রে করে দিতে হবে।

৭) তুলসী গাছের যে মঞ্জরী বা বীজ গুলি থাকে সেটাকে কিন্তু ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। সেটা হাত দিয়ে একটু ডলে খুব সহজেই গাছের গোড়ায় আপনারা দিয়ে দিতে পারেন। ব্যাস উপরিউক্ত এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললেই কিন্তু সহজেই আপনার বাড়িতে তুলসী গাছ ভালো হবে বেড়ে উঠবে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সতেজ থাকবে।

Leave a Comment