প্রতিদিন টবেতে থাকা গাছের গোড়ায় দিন এই একটি ঘরোয়া জিনিস, কয়েকদিনের মধ্যেই ছোট্ট গাছে ধরবে প্রচুর ফুল

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের আশেপাশে এমন বহু মানুষ রয়েছেন যারা কিন্তু বাড়িতে গাছপালা লাগাতে এবং বাগান করতে খুবই ভালোবাসেন। আজকাল অল্প জায়গায় ‌ বাগান করার জন্য ছাদ বাগান বা কিচেন গার্ডেন বেশ জনপ্রিয় মানুষের মধ্যে। তবে যদি গাছের উপযুক্ত পরিচর্যা না করা হয় তাহলে কিন্তু কোন রকম ভাবে এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না দীর্ঘ সময়।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে তাই গাছের পরিচর্যার স্বার্থে আলোচনা করে নিতে চলেছি এমন একটি তরল খাবারের কথা যা যে কোন গাছেই আপনারা প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রতিবেদনের একেবারে শেষে আমরা এর গুনাগুন সহ অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করব। তবে চলুন তার আগে জেনে নেওয়া যাক এই তরল খাবারটা তৈরি করতে গেলে আপনাদের কি কি উপকরণ ব্যবহার করতে হবে এবং কিভাবে তৈরি করবেন!

আজ আমরা যে খাবারটি প্রয়োগের কথা বলব সেটা যদি আপনি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আর অন্য ধরনের খাবার খুব একটা ব্যবহার করার দরকার নেই। গাছের প্রয়োজনীয় সমস্ত রকমের ভিটামিন বা খনিজ লবণ এর মধ্যেই কিন্তু আবদ্ধ থাকবে। সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় বাড়ির ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করেই আপনারা এটা তৈরি করতে পারবেন, সুতরাং অতিরিক্ত অর্থ খরচের চিন্তাও কিন্তু আর থাকছে না।

এই খাবারটি বানানোর জন্য উপকরণ হিসেবে আপনাদের যা যা প্রয়োজন হবে তার মধ্যে রয়েছে চা পাতা, দুটি অ্যালোভেরার ডগা, কিছু পরিমাণ সর্ষের খোল, হলুদ গুঁড়ো এবং গুড়। এই প্রত্যেকটা উপকরণের সাথেই আপনারা পরিচিত রয়েছেন এবং কমবেশি হয়তো আপনাদের সকলের বাড়িতেই এগুলো উপস্থিত থাকে।

অ্যালোভেরার যে ডাল দুটো আপনারা নিয়েছেন সেটাকে সবার প্রথমে টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এবার একটা বড় বালতি নিয়ে তাতে চার থেকে পাঁচ লিটার পরিমাণ জল নিন আর তাতে এই এলোভেরার টুকরোগুলো ফেলে দিন। এবার তিন থেকে চার চামচের চা পাতা আপনারা নিয়েছিলেন সেটা কেউ এই জলের মধ্যে দেবেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যদি আপনি ফ্রেশ চা পাতা নিয়ে থাকেন তাহলে মোটামুটি অল্প পরিমাণেই হয়ে যাবে, কিন্তু ব্যবহৃত চা পাতা নিলে কিন্তু একেবারে দ্বিগুণ নিতে হবে।

এবার একে একে সর্ষের খোল, হলুদ গুঁড়ো এবং গুড় তিনটি উপাদানকেই এই জলের মধ্যে দিয়ে দেবেন। বড় একটি স্টিকের সাহায্যে বেশ কিছুক্ষণ সময় নাড়াচাড়া করুন যাতে উপকরণগুলো জলের সাথে ভালোভাবে মিশে যায়। এরপর আপনাদের মোটামুটি ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা এই উপকরণ মিশ্রিত জলটিকে ফেলে রেখে দিতে হবে। তারপরেই এটা ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে যাবে। ব্যবহার করার আগে একটু ছেঁকে কোন স্প্রে বোতলে ভরে নিন। যেকোনো গাছে আপনারা এটা স্প্রে করতে পারেন অথবা সোজাসুজি গোড়াতেও ঢেলে দিতে পারেন। এবার আসি এই তরল খাবারের গুণাগুণের কথায়।

এই তরল খাবারের মধ্যে এমন সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা গাছকে সতেজ আর সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে। শুধুমাত্র তাই নয় গাছের যে কোন সমস্যা যেমন পাতা কুঁকড়ে যাওয়া বা হলুদ হয়ে যাওয়া, ছত্রাক বা পোকার আক্রমণ থেকে শুরু করে ফুল ফল কমে যাওয়া সব কিছুই কিন্তু এই খাবারের প্রয়োগের দূর হয়ে যাবে। অতএব আর দেরি না করে খুব সহজ পদ্ধতিতে তৈরি এই খাবার অবশ্যই আপনার বাড়ির বাগানের গাছে প্রয়োগ করুন আর দেখে নিন ফলাফল। গাছপালা সংক্রান্ত এই ধরনের আরো টিপস পেতে চাইলে নজর রাখতে থাকুন আমাদের পোর্টালের পাতায়।

Back to top button