একদম অল্প পুঁজিতে গ্রাম বা শহরে করার এই দুর্দান্ত পাঁচটি ব্যবসা আইডিয়া, লাভ থাকবে ১২ মাস

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিগত কিছু সময় ধরেই কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ চাকরি-বাকরির দুর্বলতার কারণে ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। শহর হোক বা গ্রাম বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু নানান ধরনের নতুন ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছেন। তবে সাধারণত শহরের দিকে যে সমস্ত ব্যবসা সহজেই শুরু করা যেতে পারে গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা হয় না।

আমাদের পোর্টালে এর আগেও নানান ধরনের বিজনেস আইডিয়া আপনাদের সাথে আমরা শেয়ার করে নিয়েছি। আজকে আমরা নিয়ে চলে এসেছি গ্রামাঞ্চলে করা যাবে এরকম সেরা ৫ টি ব্যবসার আইডিয়া। আপনারা যারা গ্রামের দিকে থাকেন এবং নতুন ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন তারা অবশ্যই আমাদের এই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন এবং বিস্তারিত জেনে নিন।

গ্রামাঞ্চলের জন্য সেরা পাঁচটি ব্যবসার আইডিয়া:

১) গোট ফার্মিং এর ব্যবসা:
সহজ কথায় এটা হল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল প্রতিপালনের ব্যবসা। এই ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাদের কয়েকটি জিনিস প্রয়োজন হবে যার মধ্যে রয়েছে ফার্ম করার জন্য জায়গা, চালা বানানোর পদ্ধতি এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা। এছাড়াও আপনাদের প্রয়োজন হবে শ্রমিক এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। যদি আপনি সম্পূর্ণ নিজেই কাজ করতে চান তাহলে শ্রমিকের খরচ কিন্তু আর আলাদা প্রয়োজন হবে না। আপনারা অন্য কোন ফার্ম থেকে বাচ্চা ছাগল কিনে নিয়ে আসতে পারেন এবং সেগুলোর খাবারের বন্দোবস্ত করে প্রতিপালন শুরু করতে পারেন।

খাবারের বন্দোবস্ত বিভিন্ন ভাবে করা যেতে পারে যেমন চাষ করে অথবা কোন জায়গা থেকে কিনে নিয়ে এসে। ছাগল পরিণত হয়ে গেলেই সেগুলোর ব্রিডিং করাবেন এবং বাচ্চা আর বড় ছাগল বিক্রি করে খুব সহজেই অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।। মোটামুটি জায়গার খরচ বাদ দিলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যেই আপনারা ১০-১২ টি ছাগল কিনে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বছরখানেক বাদে এই ছাগলগুলো থেকে খুব সহজেই আপনারা কিন্তু প্রায় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি উপার্জন করতে পারবেন।। মাথায় রাখবেন যত বছর আপনি এই ব্যবসা ধরে রাখতে পারবেন ততই কিন্তু উপার্জন বাড়বে।

২) মাছের ব্যবসা:

এই ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাদের সবার প্রথমে যে জিনিসটা প্রয়োজন হবে তা হল উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কখনোই মাছের ব্যবসা শুরু করা কিন্তু যাবে না। এই ব্যবসা শুরু করতে চাইলে স্থানীয় বিডিও অফিসে আপনারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ট্রেনিং নিতে পারবেন। এই ফিশ ফার্মিং বা মাছের বিজনেস শুরু করতে চাইলে ট্রেনিং ছাড়াও যে সমস্ত জিনিসগুলো প্রয়োজন হবে তা হলো পুকুর, মাছের চারা এবং মাছের খাবার।

যদি নিজের পুকুর না থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনাকে পুকুর ভাড়া নিতে হবে। সুতরাং এই ব্যবসা শুরু করতে গেলে আপনার হাতে পর্যাপ্ত মূলধন থাকা বাঞ্ছনীয়। অন্ততপক্ষে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা মূলধন ছাড়া আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না। তবে আরো কয়েকটি জিনিস আপনাকে আগে থেকেই জেনে রাখতে হবে তা হল কোথা থেকে মাছের চারা কিনবেন এবং সেটা কম দামে পাবেন, কোথায় এগুলো বিক্রি করবেন এবং কিভাবে।

৩) মুদিখানার ব্যবসা:
এটা এমন একটা ব্যবসা যেটা গ্রাম আর শহর নির্বিশেষে শুরু করা যেতে পারে। সব জায়গাতেই কিন্তু এই মুদিখানার বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা বর্তমান। এই ব্যবসার প্রফিট মার্জিন খুব বেশি না হলেও বিক্রি কিন্তু ব্যাপকভাবে হবে এবং ব্যবসা কখনোই আপনার থেমে থাকবে না। যেহেতু আপনি সারা বছরই ব্যবসা থেকে ইনকাম করতে পারবেন তাই প্রফিট মার্জিন কম হলেও খুব একটা সমস্যা কিন্তু হবে না।

উল্টোপাল্টা ইউটিউবে ভিডিও না দেখে একেবারে পুরনো কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পর আপনারা এই মুদিখানার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। পাইকারি দরে মাল কিনে এই পণ্য মুদিখানার দোকানে নির্দিষ্ট লাভের মাধ্যমে সহজেই বিক্রি করা যেতে পারে। সবশেষে এই ব্যবসা প্রসঙ্গে একটাই কথা বলবো এরকম ব্যবসা কিন্তু খুব একটা হয় না।

৪) অনলাইন সার্ভিস বা কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট এর ব্যবসা:

কোনরকম branch ছাড়াও সার্ভিস সেন্টার খুলে যে কোন ন্যাশনাল ব্যাংকের সুযোগ সুবিধা আপনারা কিন্তু নিজের এলাকায় মানুষদের দিতে পারেন। প্রত্যেক সার্ভিস পিছু আপনি কমিশন ভিত্তিক একটা ভালো অংকের অর্থ উপার্জন করতে পারবেন এই ব্যবসায়। ব্যাংকের এই ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাদের কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়মাবলী বা শর্ত মেনে চলতে হবে। অনলাইনে সার্চ করলে আপনারাই বিষয় নানান ধরনের তথ্য পেয়ে যাবেন কিন্তু খুব সহজেই। গ্ৰামাঞ্চলের দিকেই ব্যবসার দারুন চলবে। শুধু জানিয়ে রাখি কোনরকম ব্যাংক সোজাসুজি সিএসপি বা এই ব্যবসা দেয় না। আপনাকে থার্ড পার্টির মাধ্যমে এটা সংগ্রহ করে নিতে হবে।

৫)সার কীটনাশক ও বীজের ব্যবসা:

গ্রামের দিকে যেহেতু কৃষিকাজের প্রচুর পরিমাণ প্রচলন দেখা যায় তাই এই ব্যবসা কিন্তু দারুন চলবে এটা এক কথায় বলা যেতে পারে। বিভিন্ন চাষবাসের ক্ষেত্রেই সার কীটনাশকের প্রয়োগ করতেই হবে। এই মূল পেশার সঙ্গে জড়িত জিনিসপত্র নিয়ে ব্যবসা শুরু করলে আপনাকে আর ভবিষ্যতের উপার্জন নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তবে খুলবো বললেই কিন্তু এই দোকান খুলে ফেলা যাবে না।এর জন্য আপনাকে প্রথমেই লাইসেন্স সংগ্রহ করে অন্যান্য তথ্য বা সারের ব্যাপারে জেনে নিতে হবে। অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনারা লাইসেন্স সংগ্রহ করে নিতে পারবেন। সুতরাং এই ব্যবসা শুরু করতে চাইলে আর দেরি করবেন না আজই বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন।

Back to top button