“লিড চরিত্র দূর! কেউ দিচ্ছে না পার্শ্ব চরিত্র, আমার মতো চরিত্র কেনো নেই?”, কাজ না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ শ্রুতির!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একজন অত্যন্ত পরিচিত মুখ হলেন শ্রুতি দাস। ‘ত্রিনয়নী’ আর ‘দেশের মাটি’ ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার পর সম্প্রতি কালার্স বাংলার মহালয়ায় মা কালী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবর থেকেই অত্যন্ত বেশি রকমের সক্রিয় শ্রুতি। প্রায় সময় কিন্তু নানান ধরনের ছবি আর পোস্ট শেয়ার করতে দেখা যায় নায়িকাকে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার সঙ্গে প্রেম সম্পর্কে জড়িয়ে রয়েছেন শ্রুতি।

সম্প্রতি ‘অপরাজিতা’ নামে একটি মঞ্চে এসে এক সাক্ষাৎকারে বিশেষ কিছু কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি বলেছেন তিনি। শ্রুতির কথায়, জনপ্রিয় এক অভিনেত্রীর মা তার গায়ের রং নিয়ে ট্রোল করেছিলেন, তিনি চাইলেই তার বিরুদ্ধেও মামলা করতে পারতেন কিন্তু করেন নি, কারণ তিনি চান নি, মায়ের জন্য ঐ শিল্পীর হেনস্থা হোক।

তারপর নিজের কাজ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শ্রুতি দাস জানান, “অনেক অভিনেত্রী কিন্তু কিছুদিন কাজ না করলে দেখা যায় হারিয়ে যান। তবে আমার ক্ষেত্রে কিন্তু তা হয়নি। দেশের মাটি শেষ হওয়ার পরে এই যে দশ মাস আমি বিরতি নিয়েছি এই সময়ের মধ্যে প্রায় দিনই কিন্তু আমি এনগেজড আমার বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকছে। কখনো কোন ইভেন্ট আবার কখনো কোন স্যুট সবকিছু নিয়েই আমি সমানভাবে ব্যস্ত। আমার বাবা-মা দুজনই কিন্তু অত্যন্ত কষ্ট করে খেটে ওঠা মানুষ। আমার বাবা ২৫ বছর একটা দোকানে কাজ করেছেন। আমি কাজ পাওয়ার পরে বাবার সেই কাজটা ছাড়িয়েছি। আমরা একে অপরের পরিপূরক।

কখনো কখনো আমি আমার বাবা মাকে ইন্সপায়ার করি আবার কখনো তারা আমাকে ইন্সপায়ারড করেন”। অভিনেত্রী আরো বলেন যে, “আমার কাছেও অনেক সাইড রোলের অফার এসেছে। প্রথমে সিলেক্ট হয়েও পরে বাদ করে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বিভিন্ন মানুষ বলেছেন যে তোমার মতন চরিত্র নেই বলেই তোমাকে কাস্ট করা হচ্ছে না। কিন্তু আমি বুঝতে পারি না আমার কাছে তো হাত-পা, দুটো চোখ, কান,মাথা সবকিছুই রয়েছে তাহলে আমার মতন চরিত্র নেই মানে? কষ্ট এখন আমার গা সওয়া হয়ে গিয়েছে।

বলতে গেলে গন্ডারের চামড়া। আমার চোখ থেকে জল পড়লে আমি কিন্তু আমার বালিশ টাই ভেজাই মায়ের বালিশটা ভিজতে দিই না”। সবশেষে অভিনেত্রী জানান, প্রথম দিকে তার এই বিষয়টা খারাপ লাগত কিন্তু পরবর্তীকালে রিজেকশনটা তার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে তবে তিনি জানেন তিনি ফেরত আসবেন আবার, নিজের কামব্যাক সম্পর্কে তিনি ভীষণভাবে আত্মবিশ্বাসী। একটি ছোট শহর থেকে উঠে আসা থিয়েটার অভিনেত্রীর জীবনের এই লড়াই নিঃসন্দেহে আপনাদেরকে অনুপ্রেরণা দিতে সাহায্য করতে পারে।

Back to top button