মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী চিকিৎসক! ঐন্দ্রিলার মায়ের অভিযোগে এবার মুখ খুলল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদন: জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার মৃত্যুর আজ প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছে। তবে এখনো তার স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি পরিবার-পরিজন এবং অনুরাগীরা। আসলে জলজ্যান্ত অভিনেত্রীর এই অকাল মৃত্যু সত্যিই মেনে নেওয়ার মতো নয়। প্রথম সময়ে ক্যান্সারকে জয় করে আসলেও দিন ১৫ আগে আচমকাই ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত হন তিনি। বেশ কিছুদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত আর সেই লড়াইতে জয়লাভ করতে পারলেন না ঐন্দ্রিলা।

অভিনেত্রী মৃত্যুর পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন তার মা শিখা শর্মা, যা জানার পর রীতিমতন আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন সকলে। গত শনিবার অভিনেত্রী স্মৃতিতে আয়োজিত একটি স্মরণ সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন মা শিখা শর্মা। সেখানে মেয়ের কথা বলতে গিয়ে রীতিমত চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

তারপরেই একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে আসেন শিখা দেবী। এক সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন,‘দু’একজন চিকিৎসকের ইগোর জন্যই ঐন্দ্রিলাকে চলে যেতে হল’। তারপর প্রত্যক্ষভাবে একজন মহিলা চিকিৎসকের উপর আক্রমণ করেন।

শিখা দেবী জানান, ঐন্দ্রিলা হাওড়ার যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সেখানকার ইউনিট ইনচার্জ ছিলেন একজন মহিলা চিকিৎসক। ঐন্দ্রিলার মায়ের কথা অনুযায়ী,দায়িত্ব নিয়ে তার মেয়েকে ডিপ কোমায় ফেলে দিয়েছিলেন এই চিকিৎসক। ইগোর কারণে এই মহিলা চিকিৎসক অন্যান্য চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতেন না যার কারণে এই বিপদ ঘটে।

তবে জীয়নকাঠি খ্যাত এই অভিনেত্রীর মা পাশাপাশি এও জানান যে,সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বাদে বাকি প্রত্যেক চিকিৎসকের এবং নার্সিং কর্মীদের ব্যবহার খুব ভালো ছিল। ঐন্দ্রিলার মায়ের অভিযোগ সামনে আসার পরে কিছু সময়ের মধ্যেই ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।

তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, “ঐন্দ্রিলার পরিবারের তরফ থেকে আমাদের কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি। এই বিষয়টি শোনার পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর যা যা করণীয় তা করা হবে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি দুঃখজনক।বাইরের থেকে উপদেশ নেওয়ার কথা যে বলছেন আমাদের মন হয় কোথাও একটা মিস কমিউনিকেশন হচ্ছে”।

শুধুমাত্র সাক্ষাৎকার নয় পরবর্তীতে একটি ইউটিউব চ্যানেলেও শিখা দেবী জানিয়েছিলেন যে, ওই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ঐন্দ্রিলার হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই একেবারে নেগেটিভ আচরণ করতেন এবং সব সময় বলতেন যে ঐন্দ্রিলা বাঁচবে না। একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে তার রোগীর জন্য এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যদিও শিখা দেবীর এই অভিযোগের পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা নেবে তা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।।

Back to top button