খুবই অল্প পুঁজিতে শুরু করুন এই দুর্দান্ত ও ইউনিক ব্যবসা, সারাবছর দেখবেন লাভের মুখ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ব্যবসা বহু ধরনের হয়ে থাকে এবং বহু রকম ভাবেই এগুলোকে শুরু করা যেতে পারে। তবে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে এমন একটি বিজনেস আইডিয়া শেয়ার করে নিতে চলেছি যা বেকার যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে বাড়িতে থাকার সাধারণ গৃহবধুরাও কিন্তু খুব সহজে করতে পারবেন।। করোনা আবহে লকডাউন চলাকালীন সময় থেকেই এই ব্যবসাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে সেই সময় মানুষ ব্যবসাটি শুরু করেছিলেন প্রয়োজনের খাতিরে।

এখন সেই ব্যবসা কিন্তু একটা ভালো উপার্জনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে বলা যায়। দোকান বাজারে বিভিন্ন জিনিস কিনে সেগুলো বিক্রি করার ব্যবসা তো কম বেশি অনেকেই করে থাকেন। এই ধরনের ইউনিক বা ক্রিয়েটিভ ব্যবসা যদি আপনারা শুরু করতে পারেন সে ক্ষেত্রে কিন্তু প্রতিদ্বন্দিতা যেমন কম হবে তেমন ভাবেই আপনার উপার্জন হবে অনেকটাই বেশি। যারা হয়তো চাকরি-বাকরি করেন তারাও কিন্তু পার্টটাইম বিজনেস হিসেবে এই ধরনের ব্যবসা চালু করতে পারেন। এই ধরনের ব্যবসায় খুব একটা খাটনির কাজ নেই।

আমরা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেব ই-কমার্সের ব্যবসার কথা। নিশ্চয়ই আপনারা এই নামটা প্রথম শুনেছেন তাই আসল ব্যবসার সম্পর্কে কোন ধারণা খুঁজে পাচ্ছেন না। পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি ই-কমার্স এর ব্যবসা হল ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ এর মতন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসা। লক্ষ্য করে দেখবেন আজকাল কিন্তু অনেকেই অফলাইনের তুলনায় অনলাইনে বেশি বিভিন্ন প্রোডাক্ট কিনে থাকেন।

বিশেষ করে যদি আপনার প্রোডাক্ট ইউনিক হয়ে থাকে। বহু এমন জিনিস রয়েছে যেগুলো হ্যান্ড মেড অর্থাৎ আপনারা নিজেরাই তৈরি করেন, বা হয়তো কোন জায়গা থেকে কম দামে সংগ্রহ করে বিক্রি করে থাকেন। এগুলো সহজেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে লাইভ করে অথবা পোস্ট করে কিন্তু আপনারা বিক্রি করতে পারেন।। খুব সহজেই এই ই-কমার্সের ব্যবসা কিন্তু আজকাল মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং অনেকেই ব্যাপক উপার্জন করছেন এই প্লাটফর্মের হাত ধরে।

সোশ্যাল মিডিয়ার যে এতটা পাওয়ার থাকতে পারে তা হয়তো আপনাদের ধারণার মধ্যেও নেই।সাধারণত ফ্লিপকার্ট বা আমাজনের মতন বড় অ্যাপ্লিকেশনগুলো যখন আমাদের বাড়িতে পণ্য সরবরাহ করে তাদের জন্য কিন্তু অনেক কুরিয়ার সাইট কাজ করে থাকে। কিন্তু যখন আপনি এই অনলাইনে ব্যবসা শুরু করবেন তখন এই পণ্য কিভাবে মানুষকে ডেলিভারি করবেন সেটা নিয়েই আপনার প্রথম চিন্তা দেখা দেয়।

তাতেও কোনো সমস্যা কিন্তু নেই। আপনার লোকালিটির মধ্যে থাকা মানুষ খুব সহজেই যেমন আপনার বাড়ি থেকে জিনিস সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারবেন; ঠিক তেমন ভাবেই যারা আপনার বাড়ি থেকে দূরে বসবাস করে তারা একই রকম কুরিয়ারের মাধ্যমে আপনার থেকে কিন্তু জিনিস পেয়ে যাবে। যে প্রোডাক্ট বা যে জিনিসটি আপনারা বিক্রি করতে চলেছেন সেটা প্রথমেই আপনাকে খুব সুন্দর করে পার্সেল করে নিতে হবে।

তার জন্য আপনারা প্যাকিং পার্সেল এবং কার্ডবোর্ডের বাক্স খুব সহজেই যে কোন দোকানে কিনতে পেয়ে যাবেন। এটার জন্য অন্যান্য এপ্লিকেশন এর মতন আপনিও কিন্তু গ্রাহকদের থেকে আলাদা ডেলিভারি চার্জ নিয়ে নিতে পারেন। অর্থাৎ ডেলিভারি করার জন্য আপনাদের অতিরিক্ত কোন অর্থ খরচ করার বা টাকা ইনভেস্ট করার প্রয়োজন নেই।

ই-কমার্সের মাধ্যমে আপনারা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। নিজেদের বানানো কোন হ্যান্ডমেড জুয়েলারি থেকে শুরু করে জামা কাপড়, পাইকারি রেটে কেনা পোষাক থেকে শুরু করে অনেক কিছুই এই অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করা যেতে পারে। আবার চাইলে আপনারা কিন্তু একই রকম ভাবে অনেক ফুড প্রোডাক্ট ও বিক্রি করতে পারেন। আজকাল যেহেতু মানুষ অনলাইনের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তাই আপনি যদি ভালো জিনিস সাপ্লাই দিতে পারেন এবং আপনার পরিষেবা ভালো হয় তাহলে খুব সহজেই এই ব্যবসা কিন্তু দাঁড়িয়ে যাবে।

এই ক্ষেত্রে আপনাদের প্রধান মাধ্যম হবে ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ। instagram এবং ইউটিউবের মতন প্ল্যাটফর্ম গুলি কেউ আপনারা কিন্তু কাজে লাগাতে পারেন। খুব সহজেই বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে নিজেদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানিয়ে এবং বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আপনারা চ্যাটিং অথবা ফোন কলের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারবেন।

কোন গ্রাহক যদি আপনার কাছ থেকে জিনিস অর্ডার করতে চায় সেক্ষেত্রে তার ঠিকানা এবং ফোন নম্বর সহ অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য আপনাকে সংগ্রহ করে, তার প্রয়োজনীয় জিনিসটি প্যাকিং করে কুরিয়ারের মাধ্যমে পার্সেল করে দিতে হবে। ব্যস তাহলেই জমজমাট হয়ে উঠবে আপনার ই কমার্সের ব্যবসা। আজকের এই বিশেষ পরিকল্পনাটি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই একটি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে ভুলবেন না।।

Back to top button