বেলুড় মঠে ঘুরতে যাওয়ার রয়েছে প্ল্যান! কিভাবে যাবেন? প্রসাদের কুপন কখন নেবেন? জেনে নিন বিস্তারিত!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- পশ্চিমবঙ্গের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেলুড় মঠ। বহু ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে কিন্তু এই বেলুড় মঠ দর্শনে এসে থাকেন। করোনা আবহে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত বেলুড় মঠ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। তবে বেশ কিছুদিন কিন্তু এই মঠ খুলে গিয়েছে এবং আগের নিয়ম অনুযায়ী প্রায় সবকিছু চলছে। তবে ভাইরাসের সংক্রমণজনিত কারণে সামান্য কয়েকটি নিয়মে বদল নিয়ে আসা হয়েছে যা আপনার জন্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন। যদি আপনি সম্প্রতি বেলুড় মঠ ভ্রমণ করতে যেতে চান সেক্ষেত্রে কোনমতেই আমাদের এই প্রতিবেদনটি কিন্তু মিস করবেন না।

বেলুড় মঠ কিভাবে যাবেন?

বেলুড় মঠ যাওয়ার সবথেকে সুবিধা জনক স্টেশন হলো হাওড়া। বিশেষ করে যদি আপনি কলকাতার বাসিন্দা হয়ে থাকেন। হাওড়া থেকে পরপর আপনি বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন পেয়ে যাবেন বেলুড় যাওয়ার জন্য। যদি হাওড়া টু বেলুর লোকাল নাও পান কোন কারনে, তাহলেও চিন্তার কোন কারণ নেই। হাওড়া থেকে তারকেশ্বর লোকাল, হাওড়া টু উলুবেরিয়া লোকাল এবং হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল লোকাল ধরে খুব সহজেই আপনারা কিন্তু বেলুড় পৌঁছে যেতে পারেন।

যদি বেলুড় মঠের সাথে আপনারা দক্ষিণেশ্বর ঘোরার পরিকল্পনা করে থাকেন সেক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সকালে বেরোনোর চেষ্টা করবেন তাহলে একই দিনে এই দুটি জায়গা কিন্তু বেশ ভালোভাবে আপনারা পরিদর্শন করে নিতে পারবেন। বাসে করেও যাওয়া যায় তবে ট্রেন জার্নি টা কিন্তু বেশ আরামদায়ক হবে যাত্রীদের জন্য। কারণ বেলুড়ের উদ্দেশ্যে রওনাকারী বেশিরভাগ ট্রেন সকালের দিকে ফাঁকাই থাকে। সুতরাং যাত্রীদের বসা নিয়ে খুব বিশেষ সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।

সবথেকে ব্যস্ততম স্টেশন হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু লোকাল ট্রেনের রুট চেঞ্জ হয়ে থাকে তাই হাওড়া স্টেশনের প্রবেশ করা মাত্রই বোর্ডগুলো কিন্তু আপনারা খেয়াল রাখতে ভুলবেন না। ট্রেন থেকে নেমে বেলুড় মঠ যাওয়ার জন্য আপনাদের স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়ে নিচে নামতে হবে। স্টেশন থেকে বেরোনোর পর আপনারা সামনেই টোটো বা অটো যা কিছু হোক পেয়ে যাবেন। ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে আপনারা কিন্তু সহজেই এর মাধ্যমে পৌঁছে যাবেন বেলুর মঠে। বাসে আসলেও কিন্তু আপনাদেরকে এই জায়গাতেই নামতে হবে।

বেলুড় মঠে প্রবেশের পর কয়েকটি লক্ষ্যনীয় বিষয়:

মঠের মূল জায়গায় প্রবেশের আগেই আপনারা কিন্তু দেখবেন গেটে একটি বড়সড়ো হলুদ রঙের বোর্ড টানানো রয়েছে। সেখানে মঠে প্রবেশের নিয়ম সহ অন্যান্য অনেক বিস্তারিত তথ্য দেওয়া রয়েছে। আপনারা চাইলে ওগুলো কিন্তু পড়ে দেখতে পারেন। মঠের ভেতরে প্রবেশ করার পর ডানদিকে রয়েছে জুতো ঘর। আপনারা চাইলে এখানে নিঃশুল্ক জুতো জমা দিতে পারো এবং মঠের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। তবে আপনারা যদি মাঠের ভেতরে প্রবেশ করতে না চান, যদি সময় কাটানোর জন্য বা মন্দিরে ভোগ পাওয়ার জন্য এসে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনাদের বলবো আর জুতো জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

কারণ যেখানে ভোগ খাওয়ানো হয় সেখান থেকে আপনারা কিন্তু এখানে আসতে পারবেন না। আর হ্যাঁ, মঠে প্রবেশের পরে যত দ্রুত সম্ভব আপনারা কিন্তু ভোগ খাওয়ার কুপন সংগ্রহ করে নেবেন। যারা স্নান করে আসেননি এই ঘাটে স্নানের ব্যবস্থা রয়েছে আপনারা করে নিতে পারেন। পাশেই রয়েছে ফেরিঘাট এখান থেকে কিন্তু আপনারা দক্ষিণেশ্বর যাওয়ার জন্য লঞ্চ পেয়ে যাবেন। বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন সকলকেই কিন্তু আপনারা এখানে নিয়ে আসতে পারেন তবে বাড়ি থেকে বানানো খাবার এখানে খাবেন না। এই জায়গাটা সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। বাইরের কোন খাবার খেয়ে এখানে নোংরা করলে আপনাদের কিন্তু জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে।

বেলুড় মঠের কিছু নিয়ম এবং দ্রষ্টব্য জিনিস:

২০২২ সালের নববর্ষের দিন থেকে এখানে আবারো আগের মতো প্রসাদ বিতরণ শুরু হয়েছে। মন্দির খোলা থাকছে ভোর ৬.৩০ থেকে বেলা ১১.৩০ পর্যন্ত এবং বিকেল বেলায় ৪.৩০ থেকে ৯.০০ পর্যন্ত। মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ছাড়া কিন্তু আপনাকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না প্রথমেই জানিয়ে রাখি। বেলুড়মঠে প্রবেশের আগে যদি আপনারা চার চাকা গাড়ি পার্ক করতে চান সেক্ষেত্রে ৬০ টাকা এবং দুই চাকা গাড়ি পার্ক করতে চাইলে আপনাদেরকে ৩০ টাকা কিন্তু পার্কিং চার্জ হিসেবে দিতে হবে।

বেলুড় মঠে প্রবেশের কিছু আগেই আপনাদের চোখে পড়বে রামকৃষ্ণ সংগ্রহ মিউজিয়াম। জুতো খুলে এই মিউজিয়ামে প্রবেশ করে দ্রষ্টব্য জিনিসগুলো কিন্তু আপনারা দেখে নিতে পারেন। যারা বেলুড় মঠের ভোগ গ্রহণ করতে চান তারা মন্দিরের পাশ দিয়ে গেলেই কিন্তু প্রসাদের কুপন নেওয়ার জায়গা পেয়ে যাবেন। এখানে কুপন দেওয়ার জন্য কিন্তু নির্দিষ্ট কোন মূল্য আপনাকে দিতে হবে না। দান হিসেবে আপনারা যা দেবেন মন্দির কর্তৃপক্ষ তাই গ্রহণ করবে।

প্রসাদ বিতরণের সময় এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য:

স্বামী বিবেকানন্দের আবাস কক্ষের পাশেই নতুন প্রসাদ কক্ষ তৈরি করা হয়েছে বেলুড় মঠে। ঠিক দুপুর ১২.০০ থেকে এখানে প্রসাদ বিতরণ শুরু করা হয়। প্রসাদ কক্ষের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবস্থা দেখলে কিন্তু যে কোন মানুষ অবাক হয়ে যেতে বাধ্য হবেন। একসঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ এখানে বসে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারবেন এরকম ব্যবস্থা করা রয়েছে।

প্রসাদ বিতরণ শুরু হওয়া মাত্রই আপনাকে ভোগ হিসেবে খিচুড়ি দেওয়া হবে। খিচুড়ির সাথে আপনাকে পরিবেশন করা হবে পাঁচমিশালি তরকারি, চাটনি এবং সুস্বাদু পায়েশ। আপনারা চাইলে খিচুড়ি এবং তরকারি দুবার করে নিতে পারেন তবে চাটনি আর পায়েস কিন্তু একবার দেওয়া হবে।

বেলুড় মঠের এই খিচুড়ি ভোগ স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণদেব নিজেও পছন্দ করতেন। এই ভোগ খাওয়ার জন্য লাইন দেখলে অবাক হয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়। সবকিছুই যেন এখানে পারফেক্ট, কোথাও কোনরকম শৃঙ্খলার ত্রুটিবিচ্যুতি নেই। লক্ষ লক্ষ রামকৃষ্ণ অনুরাগীকে এখানে একসাথে বসিয়ে সুন্দরভাবে খাওয়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

নিমেষের মধ্যেই যেন সমস্ত কাজ করা হয়। যদি আপনারা কলকাতার কাছেপিঠের মধ্যে কোন আধ্যাত্মিক পরিবেশে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে থাকেন তাহলে কিন্তু একেবারেই দেরি না করে বেলুড়মঠে ভ্রমণ করে আসতে পারেন

Back to top button