বাড়িতে ঘরোয়া সহজ পদ্ধতিতে বানিয়ে ফেলুন ঝরঝরে ‘মুড়ি ঘন্ট’ রেসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদন :প্রথম থেকেই কিন্তু বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের রান্না বান্না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে অত্যন্ত পছন্দ করে থাকেন। প্রতিদিন খাবারে নিত্যনতুন রেসিপি না পেলে কিন্তু অনেকেরই চলেনা। তাই আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিতে চলেছি একটি অসাধারণ রেসিপি। রেসিপিটি তৈরি করতে কিছু বেশি সময় লাগলেও নিঃসন্দেহে বলতে পারি বাড়িতে যখন আপনারা এটা তৈরি করবেন সবাই কিন্তু রীতিমতো চেটেপুটে খাবে।

তবে এটা কিন্তু নতুন কোন পরীক্ষামূলক রেসিপি নয়।। মা মাসিমা থেকে শুরু করে সকলেই কিন্তু এই রেসিপি তৈরি করেছেন কম বেশি। আপনারা হয়তো কম বেশি এর আগেও রান্নাটি করেছেন বা খেয়েছেন। আমরা বলছি মুড়িঘন্টর কথা। চলুন তাহলে আর দেরি না করে কিভাবে মুড়িঘন্ট বানাবেন তার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  • সাবেকি মুড়িঘন্ট বাড়ানোর একেবারে সহজ ও সাধারন রেসিপি:

১) মুড়িঘন্ট তৈরি করার জন্য আপনাদের প্রথমে একটি বড় সাইজের কাতলা মাছের মাথা নিয়ে নিতে হবে। মাথাটিকে সামান্য কেটে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে আপনাদের স্বাদ অনুযায়ী লবণ আর সামান্য পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে দিতে হবে। এই দুটি উপকরণকে মাছের মাথার সঙ্গে মাখিয়ে বেশ কিছুক্ষণ সময় রেখে দিতে হবে। এবারে একটা পাত্রের মধ্যে আমরা নিয়ে নিচ্ছি পরিমাণ মতন গোবিন্দভোগ চাল। আপনাদের চাল খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। যে চায়ের কাপগুলি বাড়িতে থাকে সেই চায়ের কাপের ৫০ গ্রাম চাল আপনারা নিতে পারেন। চালটাকে ভালোভাবে ধুয়ে আপনাদের ৩০ মিনিট সময় পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখতে হবে।

২) এবার দ্বিতীয় ধাপে আপনাদের একটা ভাজা মশলা তৈরি করে নিতে হবে। যারজন্য শুকনো খোলায় আপনাদের কয়েকটি শুকনো লঙ্কা নিয়ে এক থেকে দেড় মিনিট সময় পর্যন্ত নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। এরপর এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে একটি তেজপাতা, দুটো ছোট এলাচ, দুটো দারচিনি।লো টু মিডিয়াম ফ্লেমে মসলাগুলোকে ভেজে নিন। এরপর এর মধ্যে যোগ করে দিন এক চা চামচ গোটা জিরে এবং সমপরিমাণ গোটা ধনে। আরো কিছুক্ষণ সময় ধরে আপনাদের কিন্তু মসলা ভেজে নিতে হবে। মসলা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরতে শুরু করলে এটাকে আলাদা একটি প্লেটে তুলে রেখে ঠান্ডা করে গুঁড়ো করে নিন।

৩)এবার ওই কড়াই এর মধ্যেই আপনাদের পরিমাণ মতন (তিন টেবিল চামচ) সরষের তেল দিয়ে দিতে হবে। তেল ভালো করে গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে ম্যারিনেট করে রাখা মাছগুলিকে দিয়ে দিতে হবে। মিডিয়াম টু হাই ফ্লেমে আপনাদের মাছের মাথা খুব ভালো করে ভেজে নিতে হবে। মনে রাখবেন মাছের মাথা যত ভালো ভাজা হবে মুড়িঘন্ট কিন্তু ততটাই সুস্বাদু হবে। তাই আপনাদের একটু সময় দিয়েই এই মাছের মাথা ভাজতে হবে। আপনারা চাইলে কাতলা মাছের বদলে রুই মাছ দিয়েও কিন্তু মুড়িঘন্ট প্রস্তুত করতে পারেন। ভেজে নেওয়ার পর এগুলিকে আলাদা পাত্রে তুলে রেখে দিন।

৪) এরপর কড়াইতে যে তেল বেচে রয়েছে তার মধ্যেই আপনাদের ২ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে দিতে হবে। আপনারা কিন্তু ঘি এর বদলে আরো সরষের তেল বা সাদা তেলও ব্যবহার করতে পারেন।।ফোড়ন হিসেবে আপনাদের দিয়ে দিতে হবে হাফ চা চামচ গোটা জিরে, সামান্য গরম মসলা, দুটো ছোট এলাচ, দুটো দারচিনি, দুটো লবঙ্গ, একটা তেজপাতা এবং শুকনো লঙ্কা নিয়ে নিন ফেটিয়ে।

মসলাগুলিকে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত লো টু মিডিয়াম ফ্লেমে সামান্য নাড়াচাড়া করে নিন। সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে এর মধ্যে আপনাদের ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখা গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে দিতে হবে। তবে চালটাকে খুব বেশি সময় ভাজার দরকার নেই। দুই থেকে তিন মিনিট পর্যন্ত ভালোভাবে ভাজলেই কাজ হয়ে যাবে। চাল ভাজতে ভাজতেই এর মধ্যে আপনারা যোগ করে দিন হাফ চা চামচ জিরা গুঁড়ো, খুব সামান্য পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো, এক চা চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো। হলুদ গুঁড়ো কিন্তু খুব বেশি পরিমাণে দেবেন না তাহলে কিন্তু হলুদের গন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৫) এবার কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে চাল আর অন্যান্য মসলা কষিয়ে নেবার পরে তার মধ্যে আগে থেকে ভেজে রাখা কাতলা মাছের মাথা আপনাদের দিয়ে দিতে হবে। মাছের মাথা দিয়ে আপনাদের চাল আরও একটু কষিয়ে নিয়ে গ্যাসটাকে মিডিয়াম ফ্লেমে করে দিতে হবে। এবার যে চায়ের কাপে আপনারা চালের পরিমাপ করেছিলেন সেটারই আড়াই কাপ জল আপনাদের এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।। তবে অবশ্যই কিন্তু গরম জল ব্যবহার করবেন। জল দেওয়ার পর এর মধ্যে দিয়ে দিন স্বাদ অনুযায়ী লবণ, চিনি এবং কয়েকটা কাঁচালঙ্কা দিয়ে দিতে হবে। তবে অবশ্যই কিন্তু অতিরিক্ত জল ব্যবহার করবেন না।

কারণ জল যদি আপনারা একেবারে পরিমাপ মতন ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু মুড়িঘন্ট একেবারে ঝরঝরে হবে। এবার ঢাকা দিয়ে মোটামুটি মিনিট পাঁচেক সময় ধরে আপনাদের চাল সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।। পাঁচ মিনিট পরে সামান্য নাড়াচাড়া করে নিয়ে একেবারে প্রথম দিকে তৈরি করে রাখা ভাজা মসলা এর মধ্যে দিয়ে দিন।

আরো মিনিট পাঁচেক সময় ভালো করে ঢাকা দিয়ে রেখে সামান্য নাড়াচাড়া করে গরম গরম নামিয়ে নিন মুড়িঘন্ট।। রেসিপিটি খেতে কেমন লাগলো তা কিন্তু অবশ্যই আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আপনাদের মতামত আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Back to top button