কাঁচের বাসনে জলের ছোপ ছোপ দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়গুলি জেনে নিন।

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঘরের অনেক রকমের বাসন কোসন থাকলেও কাঁচের বাসন আমাদের কাছে একটু বেশি পছন্দের। তাই না! এর কারন হলো কাঁচের বাসনের আকর্ষণ। কাঁচের বাসনপত্র অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। কিন্তু অনেকদিন ব্যবহার করলে কাঁচের বাসনে জলের কেমন একটা ছোপ ছোপ দাগ বসে যায়। যা দেখতে ভালো লাগে না। এই সমস্যার থেকে সমাধান পেতে কিছু ঘরোয়া টোটকা জেনে নিন চলুন।

কুসুম গরম জল ব্যবহারঃ

কাঁচের বাসনপত্র ধোয়ার সময় চেষ্টা করবেন কুসুম গরম জল ব্যবহার করার। এতে করে বাসন ভালো থাকবে। বাসনে দাগ বসে গেলে একটি পাত্রে কিছুটা কুসুম গরম জল নিয়ে তার মধ্যে দুই থেকে তিন টেবিল চামচ লেবুর রস দিয়ে মিশিয়ে কাঁচের বাসনগুলো তাতে বিশ থেকে পঁচিশ মিনিট ভিজিয়ে রেখে দিন। এই জল থেকে তুলে কোন ডিশ ওয়াশার দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।

নরম স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করুনঃ

বাসন মাজার জন্য সবসময় নরম কোন ব্রাশ, মাজনি বা স্ক্রাবার ব্যবহার করুন। খসখসে বা শক্ত বা মেটাল দিয়ে তৈরি ব্রাশ দিয়ে কখনোই কাঁচের বাসন মাজতে যাবেন না। এতে করে বাসনে ফাটল ধরে যেতে পারে। আবার বাসনের চকচকে ভাবটাও নষ্ট হয়ে যায় শক্ত জিনিস দিয়ে ঘষলে। তাই বাসন ভালো রাখতে নরম স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করুন।

ভিনেগার দিয়ে পরিষ্কার করুনঃ

কাঁচের বাসনের একটা সুবিধা হলো এতে ময়লা সহজে বসতে পারে না। কিন্তু দেখবেন তৈলাক্ত বা বেশি মসলাদার খাবার রাখতে রাখতে কেমন একটা হলুদ হলুদ ভাব চলে আসে। এটা পরিষ্কারের একটা সহজ উপকরন হলো ভিনেগার। ভিনেগার দিয়ে খুব সহজে বাসন চকচকে করতে পারেন। এর জন্য প্রথমে বাসনগুলো সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।

এরপর একটি পাত্রে জল দিয়ে তাতে ১ টেবিল চামচ ভিনেগার দিয়ে মিশিয়ে নিন। তারপর ঐ জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। দেখবেন আপনার পুরাতন বাসনগুলো কেমন নতুন হয়ে গিয়েছে। তেলতেলে ভাবটাও আর থাকবে না। আবার চাইলে বাসন ধোয়ার পর তা একটি পরিষ্কার পাতলা সুতি কাপড়ে কিছুটা ভিনেগার দিয়ে মুছে নিতে পারেন। একই ফল পাবেন।

চাল ধোয়া জল দিয়ে পরিষ্কার করুনঃ

ভাত রান্নার সময় আমরা চাল ধুয়ে রান্না করি। চাল ধোয়ার পর এই জল ফেলে দিই। আজ জেনে রাখুন এর গোপন কাজ। বিনা খরচে আপনার কাঁচের বাসনগুলো ঝকঝকে করতে চান! তাহলে চাল ধোয়া জল না ফেলে কাজে লাগান। একটি পাত্র নিন এবং তাতে চাল ধোয়া জল সংরক্ষণ করুন। এরপর ঐ জলে কাঁচের বাসনগুলো পনের থেকে বিশ মিনিট ডুবিয়ে রেখে দিন। তারপর নর্মাল জল দিয়ে ধুয়ে নিন। পেয়ে যাবেন বিনা খরচে ঝকঝকে কাঁচের বাসন।

বেকিং সোডা ব্যবহার করুনঃ

কাঁচের বাসন পরিষ্কার করতে আরো একটি কার্যকরি জিনিস হলো বেকিং সোডা। একটি বড় পাত্রে পরিমাণ মতো জল নিন। তাতে ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর কাঁচের বাসনগুলো তার মধ্যে ডুবিয়ে রেখে দিন। কিছু সময় পর তুলে ধুয়ে ফেলুন পরিষ্কার

অন্যান্য টিপসঃ

কাঁচের বাসনে দাগ পড়ে যাওয়ার একটি অন্যতম কারন হলো তা ধোয়ার পর অনেকটা সময় ধরে জল সহ রেখে দেওয়া। এর ফলে প্লেটে দাগ বসে যায়। তাই আজ থেকে এই কাজটি এড়িয়ে চলুন। ভেজা বাসনপত্র বেশিক্ষণ ভেজা অবস্থায় ফেলে রাখবেন না। ধোয়া হয়ে গেলে সাথে সাথেই তা মুছে ফেলুন। এর জন্য নরম সুতি কাপড়, কিচেন টাওয়েল বা পেপার টাওয়েল ব্যবহার করতে পারেন। তবে খসখসে কিছু দিয়ে এই কাজটি আবার করতে যাবেন না।

কাঁচের বাসনের একটি সমস্যা হলো কোণা ভেঙে যাওয়া। অনেক সময় পরিষ্কার করতে গিয়ে প্লেট বা কাপের কোণা ভেঙে যায়। এই সমস্যার সমাধান হলো যখনি কাচের বাসনপত্র ধুবেন, তার আগে সিঙ্কে একটা কিচেন টাওয়েল বিছিয়ে দিন। এরপর ধোয়া শুরু করুন। ধুয়ে ধুয়ে তার উপর বাসনগুলো গুছিয়ে রাখুন। তাহলে আর বাসনপত্র সহজে ভাঙতে পারবে না।

কাঁচের গ্লাস বা জগ ধোয়ার সময় একটা কাজ করতে পারেন। ধোয়া হয়ে গেলে গ্লাস বা জগের মধ্যে সামান্য পরিমাণ সাদা সিরকা বা ভিনেগার দিতে পারেন। ভালো করে পুরো জগ বা গ্লাসের গায়ে মাখিয়ে নিতে হবে। এরপরে এর মধ্যে দুই চা চামচ ঠান্ডা ভাত দিয়ে দিন আর একটা কিছু দিয়ে ঢেকে ঝাঁকিয়ে নিন। তারপর খুলে জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই ঝকঝকে হয়ে যাবে।

কাঁচের প্লেটে কখনো সরাসরি গরম গরম খাবার দিবেন না। গরম খাবার ঢালার আগে প্লেটের মাঝখানে একটা চামচ রেখে দিতে পারেন। অনেকদিনের পুরানো বেসন বা ময়দা নষ্ট হয়ে গেলে আমরা ফেলে দেই। কিন্তু এটাকেও কাজে লাগানো যায়। এগুলো শুধু শুধু ফেলে দিয়ে অপচয় না করে কাঁচের বাসন ধোয়ার সাবান হিসাবে ব্যবহার করে দেখুন। দেখবেন ডিটারজেন্টের চেয়ে ভালো কাজ করবে। বাসনপত্র চকচক করবে।

Leave a Comment