মাংস রান্নায় ঝাল বেশি হয়ে গেছে? সামাল দিন ঘরোয়া এই ১০ টি উপায়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন: ছুটির দিন হোক বা পুজোর মরশুম বাড়িতে কিন্তু মাংস রান্নার আমেজ বরাবর থেকেই আলাদা রকমের। কিন্তু ধরুন রান্না শেষে আপনারা হঠাৎ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পেলেন দারুন ঝাল হয়ে গিয়েছে। ব্যাস সমস্ত পরিশ্রমের উপরেই কিন্তু জল পড়ে গেল। কিভাবে জমিয়ে হবে আর খাওয়া দাওয়া? যারা ঝাল খেতে পারেন না বা বাড়ির বাচ্চারা তো সেই খাবার মুখেই তুলতে পারবে না!

আজকের এই প্রতিবেদনে তাই আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে চলে এসেছি সমাধান। এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব কোন কারণে মাংসের ঝালের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে তা কমিয়ে ফেলার জন্য সহজ 11 টি উপায়। প্রত্যেকটি উপায় কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী এবং সাধারণ। আপনাদের যেটা সবথেকে সহজ মনে হয় সেটাই আপনারা ট্রাই করে দেখতে পারেন। চলুন তাহলে আর দেরি না করে আজকের এই প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

১) অ্যাসিডিক উপাদানের ব্যবহার: যদি কোন কারণে মানুষের ঝালের পরিমাণ বেশি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে আপনারা কিন্তু অ্যাসিডিক উপাদান ব্যবহার করতে পারেন।মাংসের তরকারিতে ঝাল বেশী হয়ে গেলে লেবুর রস, ভিনেগার, টমেটো, বা আনারস সহজেই আপনারা ব্যবহার করতে পারেন। তবে পাঠকদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি, লেবুর রস, ভিনেগার, টমেটো সসের ক্ষেত্রে ১-২ টেবিল চামচের বেশী দেয়া যাবে না৷

এগুলো না থাকলে আস্ত টমেটো বা আনারস কুচি করে দিতে পারবেন।ঝাল কমানোর জন্য টমেটো বা আনারস কুচি করে দেওয়ার কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাপ থাকছে।১ কাপের এক চতুর্থাংশ টমেটো বা আনারস কুচি ঝাল তরকারিতে দিবেন। ঢালার পরে ভালো করে নাড়তে থাকুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে দেখবেন আপনি এই ঝাল কমে গিয়েছে। যদি কোন কারণে একটু টক ভাব চলে আসে তাহলে অন্য উপাদান দিয়ে ব্যালেন্স করে নিতে পারেন।

২) সুইটেনার: যদি কোন কারনে তরকারিতে ঝাল কমাতে গিয়ে টক বেড়ে যায় তাহলে আপনারা কিন্তু সুইটেনার ব্যবহার করে নিতে পারেন। সুইটেনার হিসেবে আপনারা চিনি, মধু, গোল্ডেন সিরাপ প্রভৃতি উপাদান সহজেই ব্যবহার করতে পারেন।মাংসের তরকারি বেশী ঝাল হয়ে গেলে ১ চা চামচ চিনি বা মধু মিশিয়ে দিন। নাড়ার পরে কিছুক্ষণ রেখে দিন যাতে স্বাদ ব্লেন্ড হয়ে যায়। যদি সঠিকভাবে কাজ না হয়ে থাকে তাহলে একটু পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন।

৩) তেলের ব্যবহার: যদি কোন কারনে মাংসের তরকারিতে ঝাল অতিরিক্ত হয়ে যায় তাহলে কিন্তু বাড়তি তেল যোগ করেও এই ঝালের পরিমাণ সহজেই কমানো যেতে পারে। তবে তার জন্য আপনাদের নিউট্রাল স্বাদের তেল ব্যবহার করতে হবে। নয়তো স্বাদে গড়বড় হতে পারে।অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল, বা গ্রেপসিড অয়েল খাবারের স্পাইসিনেস কমানোর জন্য ব্যবহার করবেন। মোটামুটি এক চামচ ব্যবহার করলেই কিন্তু কাজ হয়ে যাবে। সুতরাং অতিরিক্ত ব্যবহার করে সমস্যা সৃষ্টি করবেন না।

৪) দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবারের ব্যবহার: দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবারের ব্যবহারেও কিন্তু খুব সহজে ঝাল দূর করে ফেলা যেতে পারে। তবে আপনাদের জানিয়ে রাখি দুধের মধ্যেও অ্যাসিড থাকে।দুধ, টকদই, সাওয়ার ক্রিম, বাটার, ঘি, চিজ ইত্যাদি খাবার ঝোলে মেশানোর সময়ে সাবধানে থাকবেন। কারণ নির্দিষ্ট পরিমাণের চাইতে বেশী পড়ে গেলে ঝোলের কনসিসটেন্সি কিন্তু আর বজায় থাকবে না। ঝাল কমানোর জন্য আপনারা হোল ফ্যাট মিল্ক ব্যবহার করতে হবে। ১৫ মিলি দুধ তরকারিতে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপরেও ঝাল না কমলে আরেকটু দুধ মেশান। এই কাজে কিন্তু আপনারা নারকেলের দুধ ও ব্যবহার করতে পারেন।

দুগ্ধজাত উপাদান হিসেবে আমরা এই প্রসঙ্গে টক দইয়ের কথা বলতে পারি।তাহলে অবশ্যই কাঠের চামচ ব্যবহার করবেন। প্রথমে ১৫ মিলি দই বা ক্রিম মেশাবেন, ঝাল না কমলে আরো ১ চামচের বেশী দেবেন না। কারণ এই জাতীয় উপাদান যদি আপনারা বেশি ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু ঝোল ঘন হয়ে যাবে। টক দই বা সাওয়ার ক্রিম দেওয়া যদি আপনার ঝামেলার মনে হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে আপনারা ১ টেবিল চামচ গ্রেটেড চিজ তরকারিতে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

৫)বাড়তি খাদ্য উপকরণের ব্যবহার: অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু বাড়তি খাদ্য উপকরণ যোগ করলেও মাংসের তরকারিতে ঝালের পরিমাণ সহজে কমিয়ে আনা যেতে পারে।মাংসের তরকারির ঝাল কমানোর জন্য মাংস হতে পারে ভালো একটা অপশন। বাড়তি এক পোয়া মাংস নিবেন। প্রথমে মাংসটা রান্না করবেন, হালকা বাদামী এবং সিদ্ধ হয়ে আসলে যে তরকারিটা ঝাল হয়েছে তার মধ্যে দিয়ে দেবেন। চাইলে আপনারা সবজি ও ব্যবহার করতে পারেন।যেমন আলু, গাজর, কুমড়া, মিষ্টি আলু। আলু বা গাজর ছোট টুকরা করে কেটে তরকারিতে দিয়ে অল্প আঁচে ১৫ মিনিট জ্বাল দিন। সবজি নরম হয়ে আসলে নামিয়ে ফেলুন। এই সবজিগুলির মধ্যে কোন একটা সবজি যদি আগে থেকেই আপনার তরকারিতে দেওয়া থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু সেটা পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না। অবশ্যই অন্য কিছু আপনাদের ব্যবহার করতে হবে।

৬) বাদাম বাটার ব্যবহার: বাদাম বাটার মধ্যে যে ফ্যাট থাকে তা খুব সহজেই ঝাল দূর করতে সাহায্য করতে পারে। শুধুমাত্র মাংস নয় যেকোনো তরকারি থেকেই কিন্তু আপনারা এই পদ্ধতিতে ঝাল দূর করতে পারেন।পিনাট বাটার, আমন্ড বাটার, কাজু বাটা, এমনকি কোকোনাট পেস্টও ব্যবহার করতে পারেন ঝাল কমানোর জন্য। বেশি না এক থেকে দুই চামচ ব্যবহার করলেই কিন্তু আপনাদের কাজ হয়ে যাবে।

৭) রায়তার ব্যবহার: সাধারণত খাবার পাতের সাথে এই রায়তা পরিবেশন করা হয়ে থাকে বড় রেস্টুরেন্ট গুলিতে। এটা ঝাল কমাতে অনেকটা সসের মতন কাজ করে। পাশাপাশি রায়তা কিন্তু ভীষণভাবে মুখরোচকও হয়ে থাকে। রায়তা তৈরি করার জন্য সাধারণত শসা, টকদই, ধনেপাতা, পেঁয়াজ পাতা, ধনিয়া, এবং জিরা এই উপাকরনগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৮) পেঁপের ব্যবহার: ঝাল কমাতে কিন্তু যে কোন তরকারিতে পেঁপে ও ব্যবহার করা যেতে পারে।কাঁচা পেঁপে খোসা ও বিচি ছাড়িয়ে সালাদ করে খেতে পারেন। আবার কাঁচা পেঁপে টুকরা করে কেটেও খেতে পারেন। কাঁচা পেঁপে খাওয়ার কিন্তু অনেক উপকারিতা রয়েছে। ঝাল কমানোর পাশাপাশি এটা তরকারিতে পুষ্টিগুণ বাড়াতেও সাহায্য করে।

৯) শর্করা জাতীয় পদার্থের ব্যবহার: যদি আপনারা শর্করা জাতীয় কোন আইটেমের সাথে মাংসের তরকারি খান তাহলে কিন্তু খুব সহজেই ঝাল কমে যাবে।তরকারি ঝাল হয়ে গেলে ভাতে ঝোল কম নিয়ে খাবেন, খাওয়া সহজ হবে।সাদা, বাদামী, জেসমিন, বাসমতী ইত্যাদি চালের ভাত ব্যবহার করুন। ঝালটা কমে যাবে। পাউরুটি, রুটি, বা পরোটার সাথেও মাংস খেতে পারেন।

১০) দুইবার রান্না: যদি কোন কারণে মাংসের ঝাল বেশি হয়ে গিয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে কিন্তু একবার রান্না করার পরে পুনরায় রান্না করে নিলেই সেটা ঠিক হয়ে যেতে পারে।দ্বিতীয়বার মাংস রান্নার সময়ে আর লঙ্কা দেবেন না। অথবা দিলেও খুব সামান্য পরিমাণে দিবেন। রান্না করার পরে প্রথম যে মাংসের তরকারিটা ঝাল হয়েছে, তার সাথে মিশিয়ে দিন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে মাংস বাড়িতে উপস্থিত না থাকলে কিন্তু এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। তাই আপনারা অবশ্যই অন্যান্য পদ্ধতিগুলি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

১১) কম ঝালের ব্যবহার: এটা কে আপনারা কোন উপায় না পরামর্শ হিসেবে দেখতে পারেন। যদি আপনি বেশি ঝাল খেতে ভালোবাসেন সেক্ষেত্রে একার রান্না করলে কোন সমস্যা নেই। তবে যদি পরিবারের সাথে রান্না করে খেতে হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছুটা হলেও ঝালের ব্যবহার কিন্তু আপনাদের নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে। কারণ সবসময় ঝালের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমাদের হাতের কাছে নাও থাকতে পারে।

সেক্ষেত্রে জমিয়ে খাওয়া দাওয়া করার আনন্দ একেবারেই মাঠে মারা যাবে। প্রয়োজনে আপনারা কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন। এটা রান্নায় খুব বেশি ঝাল প্রয়োগ করে না। তবে কাশ্মীরি লঙ্কার গুলো ব্যবহার করলে রান্নার স্বাদ এবং বর্ণ খুবই সুন্দর তৈরি হয়। বিশেষ করে চিকেন বা মাটন রান্না করার সময় আপনারা কিন্তু অবশ্যই কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ব্যবহার করার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

Back to top button