বাড়িতে থাকা তুলসী গাছ অল্পদিনেই বাড়বে দ্রুততার সাথে, শুধুমাত্র ব্যবহার করুন এই ১০টি সহজ দুর্দান্ত ট্রিকস!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই কমবেশি রয়েছে তুলসী গাছ। তবে বাড়িতে কিন্তু শুধুমাত্র এই গাছ রাখলেই হয় না তার ভালো করে যত্নও করতে হয়। অনেক সময় মানুষ তুলসীর চারা রোপণ করলেও সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে না। যার কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যায়। মনে রাখা দরকার যে তুলসী গাছের আশেপাশে থাকা আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং এতে ভালভাবে জলও দিতে হবে।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে এমন কিছু টিপস শেয়ার করে নেব যাতে খুব সহজেই কিন্তু তুলসী গাছ ভালোভাবে বাড়বে এবং সর্বদা সতেজ থাকবে। পাশাপাশি এমন একটি উপাদানের কথা বলব যেটা ব্যবহার করলে তুলসী গাছের পরিচর্যায় কোন রকমের সমস্যা হবে না। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে কিন্তু এই গাছের একপ্রকার আলাদাই ভূমিকা রয়েছে। তুলসী গাছ শুকিয়ে যাওয়া কিন্তু অশুভ বলে মনে করা হয়। তাই আপনার বাড়িতে যদি তুলসী গাছ থেকে থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই কিন্তু আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি আপনি মিস করবেন না।

তুলসী গাছের পরিচর্যার বিশেষ কিছু দিক:

১) বাড়িতে আপনারা যখন তুলসী গাছের চারা নিয়ে আসবেন তখন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে এর মধ্যে কোন রকমের শুকিয়ে যাওয়া বা কালো পাতা না থাকে। গাছের চারা যেন সবদিক থেকেই একেবারে সতেজ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

২) তুলসী গাছের জন্য এমন মাটি আপনাদের বেছে নিতে হবে যেটা কোনরকম ভাবেই শক্ত প্রকৃতির হয়ে যাবে না এবং তুলসী গাছের শিকড় জড়িয়ে ফেলবে না। সাধারণ মাটির মধ্যেই আপনারা ফার্টিলাইজার হিসেবে ভার্মিং কম্পোস্ট ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও আপনাদের দিতে হবে কোকোপিট। মোটামুটি ৭০ % মাটি, ২০ % হচ্ছে ভার্মিং কম্পোস্ট এবং বাকি ১০% থাকতে হবে কোকোপিট।

৩) মোটামুটি আপনাদের এই গাছ লাগানোর জন্য ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চির টব নিয়ে নিতে হবে। এর থেকে ছোট টবে কিন্তু তুলসী গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। অবশ্যই যে টব আপনারা নেবেন তার নিচের অংশে কিন্তু ছিদ্র থাকতেই হবে। এই ছিদ্রর মাধ্যমেই অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাবে। সুতরাং আপনারা যে টবই ব্যবহার করুন না কেন তার মধ্যে কিন্তু দুই থেকে তিনটি ছিদ্র করে দেবেন, অবশ্যই যদি আগে থেকে না থাকে। এরপর ছোট আকারের কাঠের টুকরো দিয়ে এগুলোকে ঢেকে দিতে হবে যাতে মাটি ওই ছিদ্র দিয়ে বাইরে বেরিয়ে না যেতে পারে।

৪) তুলসী গাছ লাগানোর সময় আপনারা অবশ্যই গোবর সার ব্যবহার করবেন এটা কিন্তু খুবই উপকারী। যত গাছ বড় হতে থাকবে এবং এর শিকড় নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়বে ততটাই কিন্তু এই সার গাছকে বাড়তে সাহায্য করবে।

৫) যখন আপনারা তুলসী গাছ লাগাবেন তখন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন গাছ যেন খুব উপরের দিকে বা খুব গভীরভাবে না থাকে। এটা যেন একেবারে মাটির মাঝ বরাবর লাগানো হয়। নয়তো গাছের শিকড় কিন্তু ভালোভাবে বিস্তৃত হতে পারবেনা। শিকড় যদি ভালোভাবে ছড়িয়ে যায় সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই কিন্তু গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো হবে।

৬) খেয়াল রাখবেন শিকড়ের মধ্যে যাতে কোনোভাবে হাওয়া না লাগে তাহলে কিন্তু গাছ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তুলসী গাছ কিন্তু খুব বেশি নড়াচড়া পছন্দ করে না, তাই খুব যত্ন সহকারে এটাকে এক জায়গায় লাগাতে হবে। গাছ লাগানোর পরে ভালো করে এর উপরে একটা মাটির আস্তরণ তৈরি করে দিতে হবে যাতে এটা খুব বেশি নড়াচড়া না করে। তুলসী গাছ কিন্তু আপনারা ঈশান কোনে রাখার চেষ্টা করবেন।

৭) অবশ্যই কিছু সময় অন্তর আপনাদের ছোটখাটো তুলসী গাছের উপরের শাখা গুলি এবং মঞ্জরীগুলিকে কিন্তু কেটে দিতে হবে। কারণ না হলে গাছের বৃদ্ধি আটকে যেতে পারে। এই মঞ্জরি গুলো কিন্তু গাছকে ভালোভাবে বাড়তে দেয় না।

৮) গাছ লাগানোর পরে যদি আপনি প্রথমবার জল দিচ্ছেন তাহলে কিন্তু পুরো টব ভরে আপনাদের জল দিতে হবে যাতে সম্পূর্ণ মাটি ভিজে যায়। মোটামুটি ৮ থেকে ১০ দিন পরেই আপনারা লক্ষ্য করবেন গাছ কিন্তু কতটা সতেজ ভাবে বেড়ে উঠেছে।

৯) অবশ্যই আপনারা যখন গাছের মঞ্জরি কাটবেন তখন খেয়াল রাখবেন যেন সকাল অথবা দিনের বেলা হয়। কারণ সন্ধ্যার সময় এটা কখনোই কাঁটা উচিত নয়, অনেকেই বলে থাকেন যে এতে পাপ হয়।

১০) এবারে আপনাদের ফার্টিলাইজার হিসেবে তুলসী গাছের মধ্যে একটি লাল রঙের জল ঢেলে দিতে হবে। এবার আপনারা হয়তো ভাবছেন এই লাল রঙের জল আবার কি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

তুলসী গাছের পরিচর্যায় ব্যবহৃত লাল জল:

এই গাছের পরিচর্যা করতে গেলে আপনাদের শুধুমাত্র এই লাল জল ব্যবহার করলেই কিন্তু ভালো কাজ হবে। এর জন্য গরুর গোবর শুকিয়ে যে ছানে তৈরি করা হয় সেটা কে আপনারা নিয়ে এসে অন্ততপক্ষে ২৪ ঘন্টা সময় জলে ডুবিয়ে রেখে দিন। এর জন্য আপনাদের একটি প্লাস্টিকের বা বড় কাছের পাত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল নিয়ে নিতে হবে এবং সেখানেই এটাকে ডুবিয়ে রেখে দিতে হবে। ২৪ ঘন্টা পরে আপনারা দেখবেন এর রং কতটা পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। জল সম্পূর্ণ লাল হয়ে গেলে বুঝবেন এর নির্যাস গুলি জলের মধ্যে চলে গিয়েছে এবং এটা এখন গাছে ব্যবহার করার জন্য একেবারে উপযুক্ত।

ব্যবহার: অন্ততপক্ষে পাঁচ দিন অন্তর অন্তর গাছের গোড়ায় আপনাদের এই লাল জল বানিয়ে কিন্তু দিয়ে দিতে হবে।এতে যেমন সুন্দরভাবে গাছের বৃদ্ধি হবে ঠিক তেমনভাবেই কিন্তু গাছের মধ্যে কোন রকমের পোকামাকড়ের উপদ্রব হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button