শিশুর ত্বক উজ্জ্বল ও ফর্সা করার রইলো ৮ টি কার্যকরী টিপস

নিজস্ব প্রতিবেদন :কম সময়ের মধ্যে ফর্সা হতে কে না চায়! বাচ্চা থেকে বয়স্ক সকলেই কিন্তু নানান ধরনের জিনিস ট্রাই করেন ফর্সা হওয়ার জন্য। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করতে চলেছি কিভাবে আপনারা শিশুর গায়ের রং সহজেই পরিষ্কার করে নিতে পারবেন সেরকম কিছু বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে। তবে তার আগে আপনাদের কয়েকটি কথা জানিয়ে রাখি। জন্মগতভাবে শিশুর গায়ের রং কিন্তু তৈরি হয়ে থাকে।

অনেকেই বলেন মা যদি গর্ব অবস্থায় দুধ বা কাঁচা হলুদ খান সেক্ষেত্রে হয়তো গায়ের রং পরিষ্কার হতে পারে।। এগুলি কিন্তু একেবারেই অযৌক্তিক কথা। শিশুর গায়ের রং এভাবে কখনোই পরিবর্তন করা যায় না। তবে ছোটবেলা থেকে বিশেষ কিছু টিপস ট্রাই করে আপনারা খুব সহজেই শিশুর গায়ের রংকে অনেকটা উজ্জ্বল করে তুলতে পারবেন।। এতে বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের চেহারার একটি উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেখতে আরো ভালো লাগবে। চলুন তাহলে আর দেরি না করে আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক। কোন জায়গায় বুঝতে অসুবিধা হলে আপনারা প্রতিবেদনের সঙ্গে থাকা ভিডিওটি কিন্তু দেখে নিতে পারেন।

শিশুর গায়ের রং ফর্সা বা উজ্জ্বল করার কয়েকটি বিশেষ টিপস:

১) শিশুর ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য বা ত্বককে উজ্জ্বল রাখার জন্য আমরা প্রথমেই বলবো আপনারা অবশ্যই ছোট থেকে তার গায়ে কুসুম গরম তেল মালিশ করার চেষ্টা করবেন। শিশুকে স্নানের পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট আগে ভালো করে গরম তেল দিয়ে মালিশ করার চেষ্টা করবেন। এতে তাদের ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। আগের থেকে তার স্কিন কিন্তু অনেকটাই নরম এবং স্বাস্থ্যকর থাকবে পাশাপাশি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তবে খুব বেশি গরম তেল কিন্তু শিশুর শরীরে মালিশ করবেন না এতে তার শরীর পুড়ে যেতে পারে।

২) শিশুর শরীর কিন্তু ছোটবেলা থেকেই কোন সময় রুক্ষ অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। আপনারা সব সময় যে কোন মশ্চারাইজার ব্যবহারের চেষ্টা করুন যাতে তাদের স্কিন একেবারে কোমল ও মোলায়েম অবস্থায় থাকে। শিশুদের জন্য বাজার চলতি বিভিন্ন ধরনের ভালো মশ্চারাইজার আপনারা কিন্তু পেয়ে যাবেন। অন্ততপক্ষে সারা দিনের তিনবার আপনাদের শিশুর শরীরে মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

৩) বাচ্চাদের স্নান করানোর আগে স্নানের জলের তাপমাত্রা কিন্তু আপনারা অবশ্যই ভালোভাবে দেখে নেবেন। খুব ঠান্ডা বা খুব গরম জলে কিন্তু তাকে কোনোমতেই স্নান করানো যাবে না এতে ত্বকের উপর প্রভাব পড়তে পারে। খুব বেশি গরম জলে স্নান করালে কিন্তু শিশুর ত্বকের ক্ষতি হয় এবং উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। বাচ্চাদের সব সময় ১২ মাস হালকা কুসুম জলে স্নান করানোর চেষ্টা করবেন।

৪) বাজার চলতি কোন বডি প্যাক ব্যবহার না করে বাড়িতে তৈরি যেকোনো বডি প্যাক আপনারা শিশুর শরীরের উপর প্রয়োগ করতে পারেন। শিশুর শরীর যেহেতু বড়দের তুলনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকে তাই আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে কোন ধরনের রাসায়নিক এতে না চলে যায়। হলুদ, ধনের গুঁড়ো আর দুধের সর মিশিয়ে আপনারা একটি পেস্ট তৈরি করে তা শিশুর ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। লাগানোর পর মোটামুটি ১০ মিনিট পর্যন্ত আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে,যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি ত্বকে কিছুটা শুকিয়ে যাচ্ছে। এবারে একটি ভিজে টাওয়াল নিয়ে সম্পূর্ণ ত্বকে তা ভালো করে মুছে ফেলুন। এটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে আপনার শিশুর স্কিন কিন্তু অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং মোলায়েম হয়ে উঠবে।

৫) যদি আপনার শিশুর গায়ে অতিরিক্ত লোম থাকে সেক্ষেত্রে আপনারা কিন্তু সেটা ঘরোয়া বডি প্যাক ব্যবহার করে সহজেই দূর করে নিতে পারেন। এর জন্য আপনারা বেসন হলুদ গুঁড়ো এবং দুধের সর মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে ফেলুন এবং সেটিকে ভালো করে শিশুর ত্বকে লাগাতে থাকুন। খুব আলতো হাতে আপনারা মাসাজ করবেন। এটি দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করলেই দেখবেন শিশুর ত্বকে যে লোমের আস্তরণ রয়েছে সেটা কিন্তু ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে। একদিনে কিন্তু এই লোম পুরো উঠবে না ধীরে ধীরে উঠাতে হবে। এরকম করলে দেখবেন কয়েক দিনের মধ্যেই শিশু স্কিম খুব বেশি উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছে। সপ্তাহে একবার এই টোটকা কাজে লাগালে কিন্তু যথেষ্ট। তবে শিশুর বয়স যদি এক বছর না হয় এটি কিন্তু না করাই ভালো।

৬) শুধুমাত্র বাইরে থেকে প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে শিশুর স্ক্রিন উজ্জ্বল হবে না। ভেতর থেকেও যাতে সে সমস্ত পুষ্টি উপাদান পায় সেদিকে আপনাদের নজর রাখতে হবে। এর জন্য আপনাদের কিন্তু নিজেদের বাচ্চাকে রেগুলার ফল এবং ফলের রস খাওয়াতেই হবে। আঙ্গুর আপেল এবং কমলালেবু এই তিনটি ফল আর ফলের রস শিশুর ত্বকের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

৭) সাত নম্বর আমরা যে টিপসটির কথা বলব সেটি হল রৌদ্র স্নান। একদম ভোরবেলায় যে রোদ উঠে সেই রোদে আপনারা কিছুক্ষণ শিশুকে রেখে দিতে পারেন। এতে শিশুর ত্বকের মধ্যে একপ্রকার ভিটামিন ডি প্রবেশ করবে যা খুবই ভালো। এটা স্কিন গ্লো করাতে খুবই সাহায্য করে থাকে। অনেকেই ভাবেন রোদে রাখলে বাচ্চা কালো হয়ে যাবে তা কিন্তু একেবারেই নয়। তবে তা বলে খুব বেশি সময় কিন্তু শিশুকে রোদে রাখবেন না। প্রখর রোদে যদি শিশুকে রাখেন তাহলে কিন্তু তার স্কিন খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে।

৮) সবশেষে বলবো সাবানের কথা। যতক্ষণ পর্যন্ত না শিশুর বয়স প্রায় দু বছর হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা শিশুর ত্বকের কোনো রকমের সাবান ব্যবহার করবেন না। সাবানের মধ্যে কিন্তু অনেক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাবানের জায়গায় বাজার চলতি আপনারা বিভিন্ন ধরনের বডি ওয়াশ শিশুর জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এতে তার ত্বকের কোন রকমের ক্ষতি হবে না এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

Back to top button