মাছ থেকে ফর্মালিন নামক রাসায়নিক দূর করার জন্য রইলো ৫ টি ঘরোয়া টিপস

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাঙালির খাদ্য তালিকায় একটি অত্যন্ত পছন্দের জিনিস হলো মাছ। কমবেশি আমাদের দৈনন্দিন রান্নার মধ্যে কিন্তু একটি না একটি মাছের আইটেম থেকেই যায়। তবে সেই মাছ যদি হয়ে ওঠে আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক তাহলে কি করবেন?

সম্প্রতি মাছকে দ্রুত বড় করার জন্য এর মধ্যে কিন্তু নানান ধরনের রাসায়নিক যেমন ফর্মালিন মেশানো হচ্ছে। অনেকেই হয়তো জানেন না এই রাসায়নিক কিন্তু আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক রকমের ক্ষতিকারক।ফর্মালিন যুক্ত মাছ আমাদের শরীরে খাদ্যের মাধ্যমে যখন প্রবেশ করে তখন কিন্তু নানান ধরনের রোগ ব্যাধি আর সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে।

বিশেষ করে শিশু আর বয়স্ক ব্যক্তিদের দেহে এই রাসায়নিক অনেক ক্ষতি করতে থাকে। বরাবর থেকেই কিন্তু নানাভাবে চিকিৎসকেরা এই ফর্মালিন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সাবধান করে এসেছেন। এই রাসায়নিক এর মাধ্যমে আপনার শরীরে কতটা পরিমাণ বিষ প্রবেশ করতে পারে সেটা হয়তো আপনাদের ধারণারও বাইরে। তাহলে এবার উপায় কি? এই রাসায়নিক এর প্রভাবের কারণে কি আপনারা মাছ খাওয়া ছেড়ে দেবেন? একেবারেই না চেষ্টা করলেই কিন্তু যে কোন সমস্যার সমাধান সম্ভব।মাছ রান্নার আগে তা থেকে এই ফর্মালিন যতটা সম্ভব দূর করে নেওয়া উচিত। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা তাই জেনে নেব এই প্রসঙ্গে কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। চলুন আর সময় নষ্ট না করে শুরু করা যাক এই বিশেষ প্রতিবেদন।

  • মাছ থেকে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফর্মালিন দূর করার উপায়:

১) ভিনিগার মিশ্রিত জলের ব্যবহার:

মাছ রান্না করার আগে তা থেকে ফর্মালিন বার রাসায়নিক দূর করার জন্য খুব সহজেই আপনারা ভিনিগার মিশ্রিত জল ব্যবহার করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে একটি পাত্রে জল দিন তাতে ২ চা চামচ ভিনিগার মেশান। তারপর মাছ এই ভিনিগার মিশ্রিত জলে ডুবিয়ে ১৫ মিনিট মত রাখুন। মিনিট ১৫ সময় পরে ওই জল থেকে মাছ তুলে নিয়ে সাধারণ জলে বেশ কয়েকবার ভালো করে ধুয়ে নিলেই কিন্তু আপনাদের কাজ হয়ে যাবে। খুব সহজেই ভিনেগারের প্রভাবে আপনাদের মাছের মধ্যে থাকা ফর্মালিন দূর হয়ে যাবে। ভিনিগার কমবেশি সকলের বাড়িতেই থাকে সুতরাং এবার থেকে বাজারের মাছ কিনে নিয়ে আসার সময় একবার এই পদ্ধতিতে ধুয়ে নিতে ভুলবেন না।

  • ২) লবণ মিশ্রিত জলের ব্যবহার:

বাজার থেকে মাছ কিনে নিয়ে আসার পরে আপনারা কিন্তু লবণ মিশ্রিত জল ব্যবহারও করতে পারেন সহজেই। একটি পাত্রের মধ্যে কিছুটা পরিমাণ জল দিয়ে তাতে 2 চামচ লবণ দিয়ে দিন। তারপর এর মধ্যে প্রায় ঘন্টাখানেক সময় মাছ ডুবিয়ে রেখে দিতে হবে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে মাছের মধ্যে থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ ফর্মালিন কিন্তু সহজেই দূর হয়ে যায়।। ভালো লাগলে অবশ্যই পদ্ধতিটি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

৩) চাল ধোয়া জলের ব্যবহার:

ভাত রান্নার আগে যখন চাল ধোয়া হয় সেই জল যদি আপনারা মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে কিন্তু সহজেই এর মধ্যে থেকে রাসায়নিক দূর করে ফেলা যাবে।প্রথমবার চাল ধোয়ার পর জল না ফেলে তা একটি বাটিতে রাখুন। এবার এই জল দিয়ে ভালো করে আগে মাছ ধুয়ে নিন। এই পদ্ধতিতে মাছ ধুয়ে নিলে প্রায় ৭০% পর্যন্ত ফর্মালিন সহজেই কিন্তু চাল ধোয়া জলের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে। অতিরিক্ত কোন ঝামেলার কারন নেই।ভাত প্রায় আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই প্রতিদিন রান্না হয়ে থাকে। সুতরাং সহজে পদ্ধতিটি আপনারা অবশ্যই মাছ ধোয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

  • ৪) ঠান্ডা জলের ব্যবহার:

একান্তই যদি আপনাদের বাড়িতে ভিনিগার না থাকে সেক্ষেত্রে একটি বিকল্প পদ্ধতিতে ঠান্ডা জলের ব্যবহার করেও কিন্তু মাছ থেকে আপনারা ফর্মালিন দূর করে নিতে পারেন। তবে স্বাভাবিকভাবেই এই পদ্ধতি কিছুটা সময় সাপেক্ষ। একটি পাত্রের মধ্যে ফ্রিজের ঠান্ডা জল ঢেলে নিন। এর মধ্যে প্রায় ঘন্টা খানেকের বেশি সময় ধরে মাছ ভিজিয়ে রেখে দিন। সম্পূর্ণ না হলেও মোটামুটি ৬০ শতাংশ ফর্মালিন এই পদ্ধতিতে কিন্তু আপনারা সহজেই দূর করে ফেলতে পারবেন।

৫) গরম জল: গরম জল ব্যবহার করেও কিন্তু মাছের মধ্যে থাকার রাসায়নিক দূর করা যেতে পারে। তবে সব রকম মাছের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না।গরম জল টাটকা মাছের নয় ড্রাই ফিস বা শুঁটকি মাছের ফর্মালিন দূর করতে ব্যবহার করবেন। গরম জলের মধ্যে এক ঘণ্টা শুঁটকি মাছ ডুবিয়ে রাখলে এর থেকে যাবতীয় ফর্মালিন দূর হয়ে যাবে তারপর নরমাল জলে ধুয়ে নিয়ে সহজেই আপনারা রান্না করতে পারবেন।

  • মাছে ফর্মালিন আছে কিনা তা কিভাবে বুঝবেন ?

বাজার থেকে মাছ কেনার আগে তাকে ফর্মালিন ব্যবহার করা হয়েছে কিনা সেটা কিন্তু আপনারা খুব সহজেই বুঝে নিতে পারবেন। সাধারণত যেসব মাছের ফর্মালিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেগুলি কিন্তু অন্যান্য মাছের থেকে অনেকটাই বেশি শক্ত হয়ে যায়। মাছের মধ্যে নিজস্ব কোন গন্ধ থাকে না, এক ধরনের কড়া গন্ধ পাওয়া যায় যা আদপে ফর্মালিনের গন্ধ। সব থেকে বড় ব্যাপার লক্ষ্য করে দেখবেন ফরমালিনযুক্ত মাছে কিন্তু কোন রকমের মাছি বসে না। এই সামান্য কয়েকটি বিষয় নজরে রেখেই কিন্তু আপনারা জেনে নিতে পারেন আপনারা যে মাছ কিনছেন তাতে ফর্মালিন মেশানো রয়েছে কিনা।

Back to top button