বাড়ির উঠোনে বা ছাদে এই সহজ ঘরোয়া উপায়ে করুন শসা চাষ, একমাসের মধ্যেই মিলবে বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদন: শসা এমন একটি খাদ্য উপাদান যা কমবেশি সকলেই কিন্তু অত্যন্ত পছন্দ করেন। তরকারি বানিয়ে হোক অথবা শুধু মুখে দুভাবেই কিন্তু এটাকে খাওয়া যেতে পারে। শসার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ রয়েছে। নিয়মিত শসা খেলে শরীর ভালো থাকে।এই খাবারে রয়েছে ভালো পরিমাণে ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালশিয়াম, আয়োডিন, ফসফরাস।

এই প্রত্যেকটা উপাদানেরই আমাদের শরীর সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে জুড়ি মেলা ভার। বাড়িতে খুব সহজেই আপনারা শসা চাষ করে নিতে পারেন। আমাদের দেওয়া আজকের পদ্ধতিতে এই গাছ চাষ করলে মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যেই কিন্তু বাম্পার ফলন পাবেন। সুতরাং শসা চাষে আগ্রহী বাগানপ্রেমীরা অবশ্যই আমাদের এই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে নিন।

স্টেপ বাই স্টেপ শসা চাষের বিশেষ পদ্ধতি:

১) শসা চাষ শুরু করার জন্য প্রথমেই বাগানের মধ্যে একটু বড় সাইজের একটা গর্ত করে নেবেন। এবার এই গর্তটির মাঝখানে গোবর সার দিয়ে দিন। এবার গর্ত করার সময় যে মাটি উপরে উঠিয়ে রেখেছিলেন সেটাকে এই সারের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। চেষ্টা করবেন মাটি যতটা সম্ভব ঝুরঝুরে করে নেওয়ার যাতে বীজে সহজেই অঙ্কুরোদগম হতে পারে।

মাটি থেকে এক থেকে দেড় ইঞ্চি পরিমাণ নিচে আপনাদের এবার এই শসার বীজগুলোকে পুঁতে দিতে হবে। রোপন করার ৮ থেকে ৯ দিনের মাথাতেই এই বীজ থেকে সহজেই চারা বেরিয়ে যাবে। চারা গাছ গজানোর পর গোড়ার মাটিটা একটু আলগা করে নেবেন যাতে এর শিকড় গুলো খুব সহজেই ছড়িয়ে যেতে পারে আর সার দেওয়ার ক্ষেত্রেও অসুবিধা না হয়।

২) শসা চাষ করার জন্য জৈব আর রাসায়নিক সার দুটোই ব্যবহার করা যেতে পারে। রাসায়নিক সার হিসেবে আপনারা প্রথমে দিতে পারেন ১০০ গ্রাম পরিমাণের টিএসপি স্যার। গাছের গোড়া থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখে চারদিকে সার ছড়িয়ে দেবেন। গাছের মধ্যেকার নাইট্রোজেন আর ফসফরাসের ঘাটতি এই সারের মাধ্যমে পূরণ হয়ে থাকে।

এবার আপনাদের প্রয়োগ করতে হবে মোটামুটি ২০ গ্রাম পরিমাণে ইউরিয়া সার। গাছের যাতে কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য ১৫ গ্রাম পরিমাণ ফুরাডান প্রয়োগ করতে পারেন। এটি গাছকে পোকামাকড়ের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। সার দেওয়ার পরে মাটি দিয়ে এই জায়গাটা ঢেকে দিতে হবে।

৩) শশা গাছ আরো একটু বড় হতে শুরু করলে আপনাদের মাচা বেঁধে দিতে হবে যাতে ভালোভাবে সাপোর্ট পেয়ে এগুলো বাড়তে পারে। গাছ যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো আর জল পায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। পারলে শসা গাছের নিচের দিকে ছয় থেকে আট পাতা একটু শসা গুলোকে আলাদা করে নেবেন যাতে সম্পূর্ণ গাছের মধ্যে উপকরণ ঝরে যেতে পারে এবং ফলন ভালোভাবে ধরতে পারে। অনেকেই এই কাজটি করেন না যার ফলে কিন্তু অনেক সময় গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে যায়। ব্যস এইভাবে শসা চাষ করলে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যেই কিন্তু দারুন ফলাফল পেয়ে যাবেন।

Back to top button