গান গাওয়াতে বাবার ছিল আপত্তি! পরে চোখের সামনে মারা যান স্বামী ও সন্তান, অনুরাধার এই অজানা গল্প চোখে আনবে জল

নিজস্ব প্রতিবেদন: অনুরাধা পড়োয়াল সংগীত জগতের এক উল্লেখযোগ্য নক্ষত্র। তার গাওয়া প্রত্যেকটি গানকেই চিরকাল ভালবেসেছে মানুষ। সঙ্গীত জগতের প্রচুর ভালবাসা পেলেও চোখের সামনে তাকে দেখতে হয়েছে স্বামী এবং সন্তানদের মৃত্যু। আজ একমাত্র মেয়ে কবিতাকে অবলম্বন করেই দিন কাটান অনুরাধা পাড়োয়াল। এই জনপ্রিয় গায়িকাকে সকলেই চিনলেও তার জীবনের এই অজানা দিক কিন্তু কমবেশি কেউই জানেন না বলা যায়। প্রথমেই জানিয়ে রাখি ১৯৫২ সালের ২৭ শে অক্টোবর কর্নাটকে তার জন্ম হয়।

যদিও তার বেড়ে ওঠা মুম্বাইতে। তার পরিবারে কিন্তু সংগীত চর্চা নিষিদ্ধ ছিল। অনুরাধা দেবীর বাবা সংগীত পছন্দই করতেন না। শুধুমাত্র মায়ের সাপোর্টেই তিনি গানের চর্চা শুরু করেন। লতা মঙ্গেশকরের গান শুনতে শুনতে সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মায়। রেডিও বা টেপ রেকর্ডারে লতাজির গান বাজলে তা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনতেন অনুরাধা। নকল করে তিনি ভালো গানও করতে পারতেন। তবে নিউমোনিয়া রোগে ভুগে তার এই সুরেলা কন্ঠ নষ্ট হয়ে যায়।

সুস্থ হয়ে গেলেও তার গলার আওয়াজ কিন্তু পাল্টে গিয়েছিল। কিন্তু তা সত্বেও গান গাওয়া তিনি বন্ধ করে দেননি। এই গান গেয়ে স্কুল থেকে শুরু করে কলেজে প্রচুর পুরস্কার জিতেছেন তিনি। এই সময় কিশোরী অনুরাধা প্রেমে পড়েছিলেন অরুণ পাড়োয়ালের। কিন্তু এই সম্পর্ক গায়িকার বাবা মেনে নেননি কারণ অরুণ যুক্ত ছিলেন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে। তাই তাকে বিয়ে করে মেয়েও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এমনটাই আশা করেছিলেন তার বাবা।

তার মনে হতো যে ভালো ঘরের মেয়েরা ওই জগতে যায় না। যদিও পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে তাদের বিবাহ হয়। এই সময় অনুরাধার বয়স ছিল মাত্র ১৭। স্বামীর সহায়তায় গানের জগতে ভালোভাবে যুক্ত হন অনুরাধা পাড়োয়াল। অমিতাভ বচ্চন অভিনীত অভিমান ছবিতে ১৯৭৩ সালে প্রথমবার তিনি গান গাওয়ার অফার পেয়েছিলেন। এই একই বছরে হিন্দি ছবি যশোদা তে গান করেন তিনি। এরপর থেকেই অনুরাধা পাড়োয়ালের পথ চলা শুরু হয়।

একে একে হিরো থেকে শুরু করে মেরি জান,নাগিনা, আশিকি, দিল হে কে মানতা নেহি, সড়ক ছবিতে গাওয়া তার গানগুলি এখনো মানুষের হৃদয় জয় করে রেখেছে। হিন্দি চলচ্চিত্র ছাড়াও বাংলা, তামিল ,মারাঠি, গুজরাটি প্রভৃতি ছবিতে ও গান গেয়েছেন তিনি। শুধুমাত্র সিনেমার গান নয় অনেক ভজন গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে তার গাওয়া ভজনগুলি আজও মানুষের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সংগীত ক্যারিয়ার তার উজ্জ্বল হলেও অন্ধকারময় ছিল ব্যক্তিগত জীবন।

১৯৬৯ সালে বিয়ে করার পর ১৯৭৪ সালে বড় মেয়ে কবিতার জন্ম দেন তিনি। তারপর ১৯৮৫ সালে তার ছেলে আদিত্যর জন্ম হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে আরও একটি সন্তানের জন্ম দেন অনুরাধা। কিন্তু জন্মানোর একমাস পরেই তার সেই সন্তান মারা যায়। জীবনের প্রথম ধাক্কা তখনই পেয়েছিলেন অনুরাধা। এর কিছু বছর পরে ১৯৯১ সালে স্বামী অরুনের অকাল মৃত্যু ঘটে। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে রীতিমতো মর্মাহত হন অনুরাধা পাড়োয়াল। তখন তার অবলম্বন বলতে মেয়ে কবিতা এবং ছেলে আদিত্য।

দুজনকে মানুষ করার পর গানের জগতে তাদের কেরিয়ার তৈরি করে দেন অনুরাধা। তার দুই ছেলে মেয়েই যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিল। তবে আচমকাই ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে অকাল মৃত্যু ঘটে তার ছেলে আদিত্যর। জানা যায় তার দুই কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল। জীবনের আরও একটা বড় অবলম্বনকে হারিয়ে ফেলে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন অনুরাধা পাড়োয়াল। চোখের সামনে দুই সন্তানের মৃত্যু থেকে শুরু করে স্বামীর মৃত্যু সবকিছুই দেখতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে তার একমাত্র অবলম্বন মেয়ে কবিতা পাড়োয়াল। তাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন একসময়ের এই জনপ্রিয় গায়িকা। পদ্মশ্রী থেকে শুরু করে বেশ কিছু জনপ্রিয় সম্মান তুলে দেওয়া হয়েছে তার হাতে। তবে সবকিছু পেয়েও তিনি যেন কোথাও গিয়ে সর্বহারা। জীবনের আসল রত্ন গুলি কেই ভাগ্যচক্রে হারিয়ে ফেলেছেন এই গায়িকা। এই গায়িকাকে আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করে নিতে ভুলবেন না।

Back to top button