জানেন গাছের গোড়ায় হলুদের গুঁড়ো দিলে কি হয়? জানলে রোজ দেবেন আপনিও

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাড়িতে বাগান করে গাছপালা বড় করে তুলতে কমবেশি অনেকেই ভালোবাসেন। কিন্তু বাগান প্রেমী এমন কিছু মানুষ যাদের নির্ধারিত কোন অভিজ্ঞতা নেই তারা কিন্তু এই গাছপালা বাড়িতে লাগাতে গিয়ে প্রচুর সমস্যায় পড়ে থাকেন। নির্দিষ্ট কিছু মরশুমে যখন গাছে পোকামাকড় বা ছত্রাকের আক্রমণ বেড়ে যায় বা গাছে পাতা হলুদ হয়ে যায় তখন কিভাবে কি করবেন বা কি করলে সমস্যার সমাধান হবে কিছুই কিন্তু তারা বুঝতে পারেন না। যদি আপনিও এমন মানুষদের মধ্যে হয়ে থাকেন তাহলে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তাহলে আর দেরি না করে শুরু করা যাক।

গাছের সমস্যায় হলুদের ব্যবহার:
১)লক্ষ্য করে দেখবেন আমাদের বাগানে যে সমস্ত গাছ থাকে তার মধ্যে অনেক গাছেই সঠিক বৃদ্ধি থাকলেও মধ্যিখানের কান্ড মারা যায়। এই জায়গাগুলোতে কিন্তু আপনারা হলুদের ব্যবহার করতে পারেন। তার জন্য যে ডালটি এরকম ভাবে মারা গেছে তার ঠিক শুকনো অংশটাকে আপনাদের কাটিং করে নিতে হবে ।

তারপর একটা ছোট পাত্রের মধ্যে সামান্য পরিমাণে হলুদ আর জল নিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে এই কাটিং এর জায়গাতে লাগিয়ে নিন যাতে ওই জায়গায় এটা ফাঙ্গাসাইটের কাজ করে। দেখবেন এই জায়গাতে কিন্তু আর রোগটা সংক্রমিত হওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না।

২) গাছের টবের মাটিতেও কিন্তু খুব সুন্দর ভাবে হলুদ ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী টবের মাটিতে একটু গোঁড়া থেকে দূরত্ব বজায় রেখে যদি আপনারা হলুদ ছড়িয়ে দিতে পারেন, তাহলে এটা টবের মাটির সাথে ভালোভাবে মিশে যাবে। অনেকেই বলে থাকেন হলুদ কখনো গাছের গোড়ায় দেওয়া উচিত নয় তাই আপনারা একটু দূরত্ব বজায় রেখেই কাজটি করবেন। এরকমভাবে হলুদের প্রয়োগে গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকবে এবং গাছ সতেজ থাকবে।

৩) অনেক গাছে কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু ঋতুতে মিলি বাগের আক্রমণ হয়ে থাকে। এই রোগ পোকার আক্রমণের হাত থেকে গাছকে বাঁচানোর জন্য হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। তার জন্য একটা মাঝারি সাইজের মগে বেশ কিছুটা পরিমাণ জল নিয়ে তাতে এক চামচ হলুদ মিশিয়ে নিন।

এবার এর মধ্যে যোগ করতে হবে হাফ চামচ পরিমাণ ডিটারজেন্ট পাউডার। এবার ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই এটি জৈব কীটনাশক হিসেবে কাজ করবে। গাছে প্রচুর পরিমাণে পোকার আক্রমণ হলে দেখবেন গাছের পাতা তারা খেয়ে নেয় অথবা পাতা কুঁকড়ে যায়। এই ধরনের পোকা বা মিলিবাগের আক্রমণ থেকে বাঁচতে এই মিশ্রণটাকে স্প্রে বোতলে ভরে আপনারা গাছে স্প্রে করতে পারেন।

বাগানের গাছকে বিভিন্ন রকমের সমস্যা বা রোগব্যাধির হাত থেকে দূর করার জন্য খুব সহজেই বাড়িতে থাকে এই হলুদ ব্যবহার করা যেতে পারে। হলুদ কিন্তু আমাদের নিজেদের শরীরেও অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে থাকে। লক্ষ্য রাখবেন যে যখন আমাদের কোনো কারণে জ্বর সর্দি হয় তখন দুধের সাথে এই হলুদ মিশিয়ে খাওয়ালে কিন্তু তা আমাদের শরীরে একটা এনজাইম বা অ্যান্টিবডির কাজ করে।

ঠিক সেরকম ভাবেই আমরা এটা আমাদের বাগানের গাছে ফাঙ্গাসাইড বা জৈব কীটনাশক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারি। এই হলুদ যেহেতু বাইরে থেকে লক্ষ টাকা খরচ করে আমাদের কিনে নিয়ে আসতে হচ্ছে না, তাই সামান্য হলুদ ব্যবহারে যদি আমরা এত গুনাগুন পাই তাহলে অবশ্যই এই টোটকা গুলো আপনাদের ট্রাই করে দেখা উচিত।

Back to top button