সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের আসল নাম জানেন? ৯০ শতাংশ মানুষেরই যা অজানা

নিজস্ব প্রতিবেদন: সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর কে চেনেন না এরকম মানুষ হয়তো আমাদের দেশে খুব কমই রয়েছেন। আজ বেশ কয়েক মাস হয়ে গেছে তিনি আর ইহজগতে নেই। মানুষের মনের গহীনে তার কণ্ঠস্বর কিন্তু চিরজীবন গেথে থাকবে এ কথা আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি। তবে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না লতা মঙ্গেশকরের আসল নাম কিন্তু লতা নয়। কি অবাক হলেন তো?

প্রসঙ্গত বলিউড হোক বা টলিউড ইন্ডাস্ট্রি তে পা রাখার আগে অনেক নায়ক—নায়িকা থেকে শুরু করে সঙ্গীতজ্ঞরাও কিন্তু নিজেদের নতুন নাম ধারণ করে থাকে। যদিও লতা মঙ্গেশকরের ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটা ঘটেছে এ কথা বলা যায় না। কিন্তু এটাও মিথ্যে নয় যে বাস্তবে তার নাম অন্য ছিল।তাঁর নামের প্রত্যেকটি অক্ষরে রয়েছে অতীতের ভিন্ন ঘটনার অস্তিত্ব। এবার প্রশ্ন হল, তাঁর নাম কেন পাল্টানো হয়েছিল? আসুন এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জেনে নেওয়া যাক।

পাঠকদের অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে প্রথমেই জানিয়ে রাখি,সুরসম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত লতা মঙ্গেশকরের আসল নাম হল কুমারী লতা দীননাথ মঙ্গেশকর। তার এই সম্পূর্ণ নামের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে একটি অন্য কাহিনী।তাঁর নামে দীননাথ নামটি ছিল তাঁর বাবার জন্য। কারন, লতাজির বাবার নাম ছিল ‘দীননাথ মঙ্গেশকর’।

তাঁর নামে মঙ্গেশকর নামটি যুক্ত হওয়ার পিছনে রয়েছে আবার লতাজির বাবার মা ইসুবাই দেবদাসীর অবদান, অবশ্যই পরোক্ষভাবে। লতাজির বাবা তাঁর মা সংযুক্ত বেশি ছিলেন। তাঁর মা গোয়ার (Goa) ‘মাঙ্গেশি’ (Mangeshi village) গ্রামের হওয়ায় পরবর্তীকালে তিনি নিজের ও নিজের মেয়ের নামের সঙ্গে জুড়ে দেন ‘মঙ্গেশকর’ উপাধি’। সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন প্রথম জীবনে লতা মঙ্গেশকরের নামে লতা শব্দ টাও ছিল না।

বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী জন্মের পর তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘হেমা’। কিন্তু পরবর্তীতে একটি বিশেষ ঘটনার কারণে সুরসম্রাজ্ঞীর নাম পরিবর্তিত হয়ে যায়।দীননাথ মঙ্গেশকরের অধীনে আয়োজিত একটি নাটকে ‘ছোট লতা’ অভিনয় করেছিলেন। উক্ত নাটকে লতাজির চরিত্রের নাম ছিল ‘লতা’। তাঁর সেই অভিনয়ে বাবা দীননাথ এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর কন্যার নাম পরিবর্তন করে ‘লতা’ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনার পরেই তিনি হয়ে ওঠেন লতা দীননাথ মঙ্গেশকর।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ১৯২৯ সালে ইন্দোরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লতা। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে লতা মঙ্গেশকর ছিলেন সবচেয়ে বড়। তাঁর বাবা পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর মরাঠি ও কোঙ্কিণী সংগীত শিল্পী ছিলেন, পাশাপাশি অভিনয়ও করতেন।গায়িকা নয় মাত্র ১৩ বছর বয়সে অভিনেত্রী হিসাবে কাজ করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। সেইসময় বাবাকে হারান গায়িকা, পাঁচ ভাই-বোনের কথা ভেবে ওই বয়সেই হাল ধরেন সংসারের।

১৯৪২ সালে একটি মারাঠি ছবির সৌজন্যে প্রথম গান রেকর্ড করেন তিনি। পরের বছর মরাঠি ছবি ‘গাজাভাউ’-এর জন্য ‘মাতা এক সুপুত কি দুনিয়া বদল দে তু’ গানটি রেকর্ড করেন লতা মঙ্গেশকর, এটি ছিল তাঁর প্রথম হিন্দি গান।এরপর ধীরে ধীরে বলিউডে পায়ের নীচের মাটি শক্ত করতে শুরু করেন লতা মঙ্গেশকর। যদিও চ্যালেঞ্জের মুখে পদে পদে পড়েছিলেন লতা।

লতা মঙ্গেশকর তাঁর সাত দশক দীর্ঘ কেরিয়ারে এক হাজারেরও বেশি হিন্দি ছবির গান রেকর্ড করেছেন এবং গান গেয়েছেন ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষায়। নতুন শতাব্দীতে গানের জগত থেকে নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন লতা, তবুও ‘বীর জারা’, ‘রং দে বসান্তি’র মতো ছবির অ্যালবামের শোভা বাড়িয়েছে তাঁর সুমধুর কন্ঠ। ২০১৯ সালে ভারতীয় আর্মিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য দেন লতা, রেকর্ড করেন ‘তেরি মিট্টি কি সওগন্ধ’, এটিই লতা মঙ্গেশকরের রেকর্ড করা শেষ গান।

Back to top button