ফ্রিজে কাটা সবজি অনেকদিন পর্যন্ত থাকবে টাটকা ও তরতাজা, শুধু এই সহজ ও সঠিক পদ্ধতিতে করুন সংরক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদন: দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে রান্না করার সময় সবজি কাটা থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ যদি একসাথে করা হয় তাহলে কিন্তু অনেকটাই সময় ব্যয় হয়ে যায়। সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে কর্মরতা মহিলা কারুর পক্ষেই কিন্তু এতটা সময় দেওয়া সম্ভব নয়। তাই যদি আপনারা আগে থেকে সবজি কেটে সংরক্ষণ করে রাখেন তাহলে কিন্তু দেখবেন অনেকটাই সময় বেঁচে যায়।

কিন্তু সঠিকভাবে যদি এটাকে সংরক্ষণ না করা হয় তাহলে কিন্তু খাবারের পুষ্টিগুণ সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তাই আপনাদের সঙ্গে এমন কিছু টিপস শেয়ার করে নেব যাতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সবজি ভালো অবস্থায় রাখা যাবে এবং তার পুষ্টিগুণ নষ্ট হবে না। চলুন তাহলে প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক।

১) সবুজ শাকসবজি সংরক্ষণ:

যেকোনো ধরনের শাক যেমন— পালং শাক, মেথি শাক ইত্যাদি কিন্তু খুব দ্রুত পচে যায়। তাই এগুলো ফ্রিজে রাখার সময় আপনাদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে যাতে সঠিকভাবে এগুলো সংরক্ষণ হয়।

ক) প্রথমত ভালোভাবে পরিষ্কার করে শাকের পাতাগুলোকে কেটে নেবেন। কোন রকমের ডাল বা কান্ড যেন এর সাথে না থাকে।

খ) তাজা শাকের মধ্যে কোন পাতা হলদে হয়ে গেলে বা পচে গেলে সেটাকে আলাদা করে ফেলে দিন নয়তো এটা পুরোটাকেই নষ্ট করে ফেলবে।

গ) এই ধরনের শাক সংরক্ষণ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সেটাকে কাগজে বা পাতলা সুতির কাপড়ে মুড়িয়ে রাখতে হবে। তাহলে এর আদ্রতা অক্ষত অবস্থায় থাকবে এবং দ্রুত নষ্ট হবে না।

২) মটরশুঁটি সংরক্ষণ:

এটা এমন একটি সবজি যা অল্প সময়ের মধ্যেই কিন্তু রান্না করে নেওয়া যেতে পারে। এটাকে যদি আপনারা সংরক্ষণ করতে চান সেক্ষেত্রে ভালো করে কেটে ধুয়ে ফেলুন। তারপর বেশ কিছুক্ষণ সময় জল ঝরিয়ে নেবেন। একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভালোভাবে ভরে মটরশুঁটি ফ্রিজে রেখে দিন। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এটা ভালো থাকবে এবং পুষ্টিগুণ নষ্ট হবে না।

৩)বাঁধাকপি, ফুলকপি এবং ব্রকলি সংরক্ষণ :

শুরুতেই জানিয়ে রাখি এই সবজিগুলো কিন্তু দুই দিনের বেশি সংরক্ষণ না করাই ভালো। আপনারাও সেটাই চেষ্টা করবেন। হালকা ভেজা কাগজ বা তোয়ালের মধ্যে মুড়ে এই তিনটি সবজি ফ্রিজে আপনারা সংরক্ষণ করতে পারেন। চট করে পুষ্টিগুণ নষ্ট হবে না।

৪) কুমড়ো সংরক্ষণ:

ভালো করে ধুয়ে কুমড়ো কেটে ফেলুন। তারপর একটা এয়ার টাইট কন্টেইনারে এটাকে ভালোভাবে সংরক্ষণ করে ফ্রিজে রেখে দিন। কুমড়ো কিন্তু অনেক দিন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় থাকে।

৫) মূল জাতীয় সবজি সংরক্ষণ:

মূল জাতীয় সবজি বলতে আমরা বুঝি আলু, গাজর, মুলা, বীট ইত্যাদি‌। এগুলো প্রথমে কেটে নিন এবং একটা পাত্রে জল দিয়ে রাখুন। জল থাকা অবস্থাতেই এই সবজিগুলোকে কাপড় বা প্লেট দিয়ে ঢেকে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। ব্যাস তাহলে এই তিন চারদিন পর্যন্ত এগুলো ভালো অবস্থাতে থাকবে।

৬)পেঁয়াজ-রসুন‌ সংরক্ষণ:

যে কোন রান্নাতেই কিন্তু পেয়াজ আর রসুনের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে গ্রেভিজাতীয় রান্নার জন্য পেয়াজ আর রসুনের পেস্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। চটজলদি রান্না করতে তাই আপনারা আগে থেকেই এগুলো রেডি করে রাখতে পারেন।পেঁয়াজ এবং রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কেটে নিন এবং ফ্রিজে একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন। তবে এই সংরক্ষণ করে রাখা পেঁয়াজ ২৪ ঘন্টা আর রসুন পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিন্তু আপনাদের ব্যবহার করতে হবে। এর বেশি সময় এগুলোকে না রাখাই ভালো।

৭) ক্যাপসিকাম সংরক্ষণ:

ক্যাপসিকাম কেটে যেকোনো বায়ুরোধী পাত্র অর্থাৎ এয়ার টাইট কন্টেইনারে সংরক্ষণ করতে পারেন তাহলেই ভালো অবস্থায় থাকবে। রান্নার আগে একবার ভালো করে ধুয়ে নিলেই হবে।

৮)ঢ্যাঁড়শ‌ সংরক্ষণ:

এই সবজি কাটতে এবং রান্না করতে কিন্তু খুব সময় লাগে। যার ফলে গৃহিণীরা অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে ওঠেন। তাই অবশ্যই এটাকে আপনাদের আগে থেকে কেটে রেডি রাখতে হবে।দেরি না করতে চাইলে রাতেই ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে কেটে নিন। জিপ লক ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখুন। ঢেঁড়স এভাবে চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।

Back to top button