মাটি ছাড়া ছাদে বা উঠোনেই জল দিয়েই এইভাবে সহজেই করুন ধনেপাতা চাষ, অল্পদিনেই মিলবে দুর্দান্ত ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদন: ধনেপাতা শীতকালের এমন একটি সবজি যা কমবেশি অনেক রান্নাতেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণত আপনারা এগুলো বাজার থেকে কিনে নিয়ে এসে থাকেন। তবে একটু চেষ্টা করলে কিন্তু বাড়িতেই সহজে এগুলো তৈরি করা যেতে পারে। তবে আজ আমরা ধনেপাতা চাষের একটি ইউনিক পদ্ধতি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেব। এখানে আপনারা জানতে পারবেন কিভাবে মাটি ছাড়াই সারা বছর জলের মধ্যে ধনেপাতা চাষ করা যায়। চলুন তাহলে সময় নষ্ট না করে প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক।

মাটি ছাড়াই সারা বছর জলে ধনেপাতা চাষের পদ্ধতি:

প্রথমে এই গোটা ধনে বা বীজগুলোকে দুই ভাগ করে ভেঙে নিতে হবে। একটা কাপড়ের মধ্যে রেখে একটু চাপ দিলেই কিন্তু এই কাজটা হয়ে যাবে। এভাবে ভেঙে নিলে জার্মিনেশন রেট দ্বিগুণ বেড়ে যায় ‌। ভেঙে নেওয়ার পরে 10 থেকে 12 ঘন্টা পর্যন্ত বীজ জলে ভিজিয়ে রাখুন। এবার একটা মিডিয়াম সাইজের প্লাস্টিকের ঝুড়ি নিয়ে নিন। এর মধ্যে কয়েকটি ক্লে বল দিয়ে দেবেন। এগুলো সাধারণত মাটির সাবস্টিটিউট হিসেবে কাজ করে থাকে। আসলে এরা দীর্ঘ সময় জল ধরে রাখতে পারে সে কারণে দারুণ গাছ হয়।

এবার একটা অন্য পাত্রের মধ্যে সমান অনুপাতে কোকোপিট আর ভার্মিং কম্পোস্ট নিয়ে নিতে হবে।ক্লে বলের উপরে এই মিক্সচার বানিয়ে দিয়ে দিন। এবার ভিজিয়ে রাখা বীজগুলোকে ঝুড়ির মধ্যে ভালোভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। উপরে ঠিক একই মিডিয়া বা মিক্সচার দিয়ে আপনাদের ঢাকতে হবে। এবার একটা বালতির মধ্যে এই ঝুড়িটাকে বসিয়ে দিন এবং এমন ভাবে কাজটা করবেন যাতে ঝুরি অর্থাৎ এই গাছের কিছুটা অংশ জলের মধ্যে থাকে। তারপর পাত্রটিকে সেমি সেডে অর্থাৎ অল্প রোদ আসে এমন জায়গায় রাখবেন। যদি শীতকালে করে থাকেন সেক্ষেত্রে ডাইরেক্ট রৌদ্রজ্জ্বল স্থানেও রাখতে পারেন।

মাত্র ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই দেখবেন এই বীজ থেকে ছোট ছোট চারা বেরিয়ে গিয়েছে। পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই গাছ কিন্তু ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করবে। আসলে এদের বৃদ্ধি হয়ে থাকে জলের মাধ্যমে অর্থাৎ যে কোন তরলের মাধ্যমে। এই গাছে আপনারা যে কোন লিকুইড সার প্রয়োগ করতে পারেন। গাছের বৃদ্ধি আর চেহারা ভালো রাখার জন্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস বা অনুখাদ্য প্রতি লিটার জলে এক মিলি দিতে পারেন ১৫ দিন অন্তর। এভাবে সঠিক পরিমাণে জল আর খাদ্য পেলে কিন্তু ধীরে ধীরে আপনাদের কাজ বড় হয়ে উঠবে এবং একটা সময় ধনেপাতা খাবার উপযোগী হয়ে যাবে।

Back to top button