এই বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করুন করলা! তেতোভাব হবে দূর, মিলবে উপকার খেতেও হবে সুস্বাদু!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- মেন্যুতে তেতো খাবারের কথা শুনলেই আমাদের মুখ শুকিয়ে যায়। টক, ঝাল, মিষ্টির মতো ডায়েটে তেতো রাখাও কিন্তু জরুরী। তেতো খাবারের মাঝে করলা কিন্তু আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। তেতো সবজি হিসেবে আমরা কিন্তু করলা আর উচ্ছে কে সবথেকে বেশি ভাল রকমের চিনি। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেব এই করলা বা উচ্ছে থেকে তেতো ভাব সহজে দূর করার উপায়।

তেতো ভাব দূর হয়ে গেলে কিন্তু আপনারা সহজেই এই সবজিগুলি রান্না করতে পারবেন এবং তা বাচ্চা থেকে বড় সবাই একেবারে চেটেপুটে খেয়ে নেবে। তবে তার আগে আপনাদের কিন্তু অবশ্যই করলা বা উচ্ছে খাওয়ার উপকারিতা জানিয়ে রাখবো। চলুন আর দেরি না করে শুরু করা যাক আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

তবে প্রতিবেদনের মূল অংশে যাওয়ার আগে আমরা আপনাদের কিন্তু করলা বা উচ্ছের কিছু গুনাগুন জানিয়ে দেব। করলাতে যথেষ্ট পরিমাণ আয়রন রয়েছে যা আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টিশক্তি মজবুত করতে আর চোখে দৃষ্টি ঠিক রাখতে সাহায্য করে থাকে। পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করলায় রয়েছে।

দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরী। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন। ডায়বেটিসের পেশেন্টের ডায়েটে করলা রাখুন। করলায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি, যা ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস ও করলা সিদ্ধ খেতে পারেন। পাশাপাশি করোলা বা উচ্ছে নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম এর সমস্যায় উপকারী। ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে।

  • করোলা বা উচ্ছে থেকে তেতোভাব দূর করার বিশেষ পদ্ধতি:

১) করোলা বা উচ্ছে থেকে তেতো ভাব দূর করার জন্য কিন্তু প্রচুর উপায় রয়েছে, তবে আমরা আজকে যেটা আলোচনা করব সেটা অত্যন্ত সাবেক পদ্ধতি। এর জন্য আপনাকে প্রথমেই কিন্তু ছোট ছোট টুকরো করে করলা বা উচ্ছে কেটে নিতে হবে। রান্না করার সময় আপনারা পেঁয়াজ আর তেলের পরিমাণ আপনারা অবশ্যই বেশি রাখবেন যাতে কোনোভাবেই তেতো ভাব বোঝা না যায়। ভাজা বা চচ্চড়ি যাই করুন না কেন প্রথমেই করলাগুলিকে ভালোভাবে কেটে নিন। তারপর আপনাকে এটি একটি বিশেষ জলের মধ্যে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে।

২) দ্বিতীয় ধাপে আমরা আলোচনা করব কোন ধরনের জলের মধ্যে আপনারা করলা ভিজিয়ে রাখবেন তা নিয়ে। একটি পাত্রের মধ্যে আপনাকে নিয়ে নিতে হবে চাল ধোয়া জল। চাল প্রথমবার ধোয়ার পরেই যে জলটা থাকে আপনারা অবশ্যই সেটাকে নিয়ে নেবেন। না হলে কিন্তু ঠিকঠাক কাজ হবেনা। এই জলের মধ্যে মোটামুটি ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় পর্যন্ত আপনারা করলা/উচ্ছে ভিজিয়ে রেখে দিন। দেখবেন এরপর যাই রান্না করুন না কেন আর কোন রকমের তিতা ভাব থাকবে না।

৩) চাল ধোয়া জলের বিকল্প হিসেবে আপনারা কিন্তু লবণ জল ব্যবহার করতে পারেন। এই পদ্ধতিটাও কিন্তু সমান ভাবে কার্যকরী। সবশেষে জানিয়ে রাখি যাই হোক না কেন বা যত উপকারী সবজি হোক না কেন একদিনে কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে করোলা খাওয়া উচিত নয়।

যারা গর্ভবতী রয়েছেন তারা কিন্তু করলার রস খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালোভাবে চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ করে নেবেন। তাহলেই কিন্তু আর কোনরকম বিপদে পড়তে হবে না। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই নিজস্ব মতামতের সাহায্যে আমাদের সাথে শেয়ার করে নিতে পারেন। ধন্যবাদ।

Back to top button