মুখের স্বাদ রোজই করুন পরিবর্তন! খুব সহজ ঘরোয়া উপায়ে বানিয়ে দেখুন এই ৫ ধরনের সুস্বাদু আলুভর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদন: সাধারণ যেকোনো বাঙালি বাড়িতেই ডাল ভাতের সঙ্গে আলু ভর্তা খাওয়া হয়ে থাকে। অনেকেই আবার এই ভর্তা শুধু ভাতের সাথেও খেতে অত্যন্ত পছন্দ করেন। আসলে আলু এমন একটি সবজি যা কমবেশি সকলেরই পছন্দের। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে তাই আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে চলেছি পাঁচ ধরনের আলু ভর্তার রেসিপি। একই রান্না যেমন বহু রকম ভাবে করা যেতে পারে ঠিক তেমনভাবেই আজকে আমরা আলোচনা করব আলু দিয়ে কিভাবে আপনারা বিভিন্নভাবে পাঁচ ধরনের আলুর ভর্তা তৈরি করবেন! চলুন তাহলে দেরি না করে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

১)আলুর ভর্তা তৈরি করার প্রথম পদ্ধতি :

প্রথমেই একটি পাত্র নিয়ে তার মধ্যে পাতলা করে কেটে নেওয়া দু চামচ পেঁয়াজ নিয়ে নিতে হবে। এবার এতে দিয়ে দিতে হবে দুই থেকে তিনটি ভাজা শুকনো লঙ্কা এবং লবণ। আপনাদের পছন্দ মতন এই লঙ্কার পরিমাণ কম বেশি করে নিতে পারেন। এবার পেঁয়াজের সাথে ভালো করে শুকনো লঙ্কা ও অন্যান্য উপকরণকে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর একটা বড় চামচ পরিমাণ কড়া (সরষে) তেল দিয়ে দিতে হবে এই মিশ্রণের মধ্যে।

এবার মোটামুটি মিডিয়াম সাইজের তিনটে সেদ্ধ করা আলু নিয়ে নিন। এবার হাত দিয়ে একটু করে মেখে এই আলুগুলিকে আপনাদের ওই উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। সুন্দর ফ্লেভার তৈরি করার জন্য ধনেপাতা কুচি যোগ করতে পারেন। ব্যাস ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে আলুর ভর্তা।

২) আলুর ভর্তা তৈরি করার দ্বিতীয় পদ্ধতি:

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে প্রথমেই আপনাদের একটি পাত্রের মধ্যে পরিমাণ মতন আলু নিয়ে নিতে হবে। এবার এতে দিয়ে দিন কালো লবণ এবং ধনেপাতা কুচি। সামান্য পরিমাণ ঘি এর মধ্যে শুকনো লঙ্কা ভেজে সেটাও এতে দিয়ে দিন। ঘি এর সাথেই কিন্তু শুকনো লঙ্কাগুলিকে আলুর মধ্যে দেবেন। সবশেষে ভাজা জিরের গুঁড়ো যোগ করে সমস্ত উপকরণ গুলিকে একসঙ্গে ভালো করে মেখে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল দ্বিতীয় পদ্ধতিতে আলুর ভর্তা।

৩) আলুর ভর্তা তৈরি করার তৃতীয় পদ্ধতি:

প্রথমেই একটি পাত্রের মধ্যে আপনাদের দুই থেকে তিনটি রসুনের কোয়া আর এক থেকে দুইটি কাঁচালঙ্কা নিয়ে নিতে হবে। একসাথে এই দুটো উপকরণকে থেঁতো করে নিন। এবার তিনটে মিডিয়াম সাইজের আলু আপনাদের এর মধ্যে নিয়ে নিতে হবে।

এবার স্বাদমতন কালো আর সাদা উভয় ধরনের লবণ যোগ করে দিন। শেষে ২ টেবিল চামচ ধনেপাতা কুচি, কাঁচা সর্ষের তেল এক টেবিল চামচ এবং এক থেকে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। এবার সমস্ত উপকরণকে একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই কিন্তু তৈরি হয়ে যাবে তৃতীয় পদ্ধতিতে আলুর ভর্তা।

৪) আলুর ভর্তা তৈরি করার চতুর্থ পদ্ধতি:

আলুর ভর্তা তৈরি করার চতুর্থ পদ্ধতিতে আপনাদের প্রথমেই একটা পাত্রের মধ্যে ২ টেবিল চামচ সরষের তেল নিয়ে নিতে হবে। এবার এটাকে হালকা গরম করে সামান্য জিরে ফোড়ন দিয়ে দিন। ফুটতে শুরু করলে দুই থেকে তিনটে কাঁচা লঙ্কা কুচি যোগ করুন। সামান্য কারি পাতা আর এক টেবিল চামচ রসুন কুচি যোগ করে দিন। খেয়াল রাখবেন কারি পাতা যেন একেবারেই পুড়ে না যায়। মিডিয়াম ফ্লেমে এরপর আপনাদের একটা মিডিয়াম সাইজের পেঁয়াজকুচি এবং স্বাদমতন লবণ এতে দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। পেয়াজ হালকা নরম হয়ে গেলেই

গ্যাসের ফ্ল্যেম হাই করে নিয়ে এতে মিডিয়াম সাইজের দুটি টমেটো দিয়ে দিতে হবে। তিন থেকে চার মিনিট হালকা রান্না করার পরে দেখবেন টমেটো টুকরো গুলো ভেতর থেকে নরম হয়ে গিয়েছে। এবার গ্যাসের আচ কমিয়ে মিডিয়াম সাইজের তিনটে আলু সিদ্ধ হালকা ভেঙে এখানে দিয়ে দিতে হবে।

হাতার সাহায্যে আলুর সাথে সমস্ত উপকরণকে নাড়াচাড়া করে মিশিয়ে নিন। সবশেষে সামান্য ধনেপাতা কুচি আর প্রয়োজন হলে লবণ যোগ করে দিন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল খুবই ইউনিক ধরনের এই আলুর ভর্তার রেসিপি।

৫) আলুর ভর্তা তৈরি করার পঞ্চম পদ্ধতি:

এই পদ্ধতিতে আপনাদের প্রথমেই একেবারে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ নিয়ে নিতে হবে দুই টেবিল চামচ। সঙ্গে নিয়ে নিন দুটি রসুনের কোয়া, সামান্য কাঁচালঙ্কা কুচি এবং স্বাদমতো লবণ। সমস্ত উপকরণ গুলিকে হাত দিয়ে ভালো করে চটকে মেখে নিন। মাখা হয়ে গেলে এতে সামান্য ধনে পাতা কুচি এবং ভালো করে গরম করে নেওয়া সরষের তেল মোটামুটি এক টেবিল চামচ পরিমাণে যোগ করে দিন।

খেয়াল রাখবেন যখন আপনারা তেল এটার মধ্যে দেবেন তখন যেন সেটা থেকে ধোঁয়া বেরোয়। এবারে এতে তিনটি মিডিয়াম সাইজের আলু চটকে দিয়ে দিন। সামান্য পরিমাণে চিলি ফ্লেক্স দিয়ে সমস্ত উপকরণগুলিকে ভালো করে মেখে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে আলুর ভর্তা।

আজকের এই প্রতিবেদনের শেয়ার করা আলুর ভর্তার রেসিপি গুলির মধ্যে আপনাদের কোন রেসিপিটি সব থেকে বেশি পছন্দ হলো তা অবশ্যই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে ভুলবেন না। প্রত্যেকটা পদ্ধতি কিন্তু অত্যন্ত সহজ আর একেবারেই ঘরোয়া হিসেবে তৈরি। আপনাদের কিন্তু এই আলুর ভর্তাগুলো তৈরি করার জন্য আলাদা করে বিশেষ কোন খরচ করার প্রয়োজন পড়বে না।

Back to top button