ঝলসে গিয়েছিল শরীরের ২৫ শতাংশ! ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুসও! জানেন এখন কেমন আছেন আবু হেনা রনি?

নিজস্ব প্রতিবেদন: মিরাক্কেল জয়ী কমেডিয়ান আবু হেনা রনিকে তো কম-বেশি আপনারা অনেকেই চেনেন। সম্প্রতি কিছুদিন আগেই তার সঙ্গে ঘটে গেছিল একটি বড় দুর্ঘটনা। বাংলাদেশে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন রনি। তার শরীরের বেশিরভাগ অংশই কিন্তু ব্যাপকভাবে পুড়ে গিয়েছিল। এমনকি তার ফুসফুস এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে,তাকে নিয়ে চিন্তায় ছিলেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন এই কমেডিয়ান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখে বাংলাদেশের গাজীপুরে পুলিস প্রশাসনের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই মোট ৫জন অগ্নিদগ্ধ হন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন এই কমেডিয়ান। এরপরেই দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেই সময়,ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সার্জন এস এম আইউব হোসেন জানিয়েছিলেন যে,“ ৩৫ বছর বয়সী আবু হেনা রনির শরীরের ২৫ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। প্রথমে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এরপর তাঁকে হাই ডিপেনডেন্সি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত করা হয়”।

কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরে এক সাক্ষাৎকারে এই কমেডিয়ান জানিয়েছিলেন,“সেখানে প্রায় ১০০ গ্যাস বেলুন ছিল। বেলুনগুলো কিছুতেই উড়ছিল না। বেলুনে লোকাল গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। যারা বেলুনগুলো বানিয়েছিল, তারা বলে গ্যাস বেলুনগুলো উড়ছে না কারণ এর সঙ্গে থাকা শুভ উদ্বোধন লেখা কাপড়টা ভারী। ওটা কাটার জন্য আশপাশে কিছু না পেয়ে দেশলাইয়ের আগুন দিয়ে কাটার চেষ্টা করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে সব বেলুনে বিস্ফোরণ ঘটে”। এছাড়াও দিন কয়েক আগেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন রনি।

যেখানে তিনি লিখেছেন, “আলহাম্দুলিল্লাহ, অনেকটা ভালো এখন। আকাশ দেখছি হাসপাতালে বসে। চারপাশের সুন্দর মানুষদের দোয়ায় এবং চেষ্টায় সুন্দর হয়ে উঠছে আমার চারিদিক। আপনাদের কথা কখনো যেন ভুলে না যাই। ভালোবাসা সবার জন্য”। জানিয়ে রাখি, বর্তমানে তার মুখের উপরে নতুন চামড়া বসানো হয়েছে। যেহেতু প্লাস্টিক সার্জারি হয়েছে তাই বাড়ি ফিরলেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তাকে। তার শরীরে যাতে কোনরকম ধুলোবালি বা গরম না লাগে সেইদিকে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসকেরা।

নিয়মিত তাকে ড্রেসিং করতে হবে এবং সময় মতন সমস্ত ওষুধ খেতে হবে। আগামী শনি বা রবিবারে হয়তো হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারবেন, এমনটাই আশ্বাস দিয়েছেন চিকিৎকেরা। ফুসফুস জখম হয়েছিল, তারই প্রথম চিকিৎসা হয়, এরপর গলার সমস্যাও মেটে। আবু রনির কথায়, “প্রায় ১২–১৩ দিন নিজের মুখটা ঠিকমতো দেখিনি। পুরো শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ছিল। ওই সময় নিজের চেহারা নিয়ে ভাবার মতো অবস্থায় ছিলাম না। বার্নের ব্যথা অন্যরকম। এই ব্যথা মেনে নেওয়ার মতো না। চাইছিলাম, যেকোনো মূল্যে ব্যথা আগে কমুক”।

Back to top button