নদীতে মাছ ধরতে গেলেন বৌদি! আচমকা হামলা করলো বিশালাকার কুমির, ভিডিও দেখে শিউরে উঠলো নেটজেনরা

নিজস্ব প্রতিবেদন: এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের সামনে অনেক আশ্চর্যকর দৃশ্য উঠে আসে যা অবাক করে রেখে দেয়। মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য একটা অন্যতম প্লাটফর্ম হিসেবে আজকাল ব্যবহার হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। যদিও আগেকার সময়ে এই প্লাটফর্মের ব্যবহার মানুষের মধ্যে খুব একটা ছিল না।

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মধ্যে এর ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে লকডাউনের পরবর্তী সময়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এই সময় ঘরবন্দি অবস্থায় থেকে মানুষ সবসময় অবসর বিনোদনের খোঁজ চালাতেন। এই বিনোদন খুব সহজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া যায়।

অনেক মানুষকে প্রতিষ্ঠিত হতেও কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া বিভিন্ন রকম দিকে সাহায্য করেছে। আজকাল যেমন এই অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে অনেকেই ব্যবসা করছেন, ঠিক তেমনভাবেই বহু মানুষ নিজেদের প্রতিভার সম্পর্কে আমাদের জানাচ্ছেন। অনেকেই আজকাল ফেসবুক বা youtube এ নানান ধরনের ভ্লগ ভিডিও বানিয়ে আপলোড করে থাকেন।

আজ আমরা আপনাদের জন্য তেমনভাবেই ভাইরাল একটি ভিডিও নিয়ে চলে এসেছি। প্রথমেই জানিয়ে রাখি এই ভিডিওটি সুন্দরবন এলাকার। আপনারা সকলেই কমবেশি জানেন যে এই অঞ্চলের মানুষদের বেঁচে থাকার জন্য ঠিক কতটা লড়াই আর সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। খাবার সংগ্রহ থেকে শুরু করে জীবিকা নির্বাহ সবকিছুর জন্যই কিন্তু ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের।

ভিডিওতে সেই দৃশ্যই ধরা পড়েছে। দেখা যাচ্ছে এক যুবতী এবং তার মা সুন্দরবনের বিদ্যাধরী নদীতে মাছ ধরতে এসেছেন। পরপর বেশ কয়েকবার নদীতে জাল ফেলে অত্যন্ত দক্ষতার সহকারে চিংড়িসহ আরো বেশ কিছু মাছ ধরে নেন তারা। এভাবেই যখন ধীরে ধীরে তারা জঙ্গলের আরো গভীরে প্রবেশ করেন তখনই একটা বিপদ চলে আসে। মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে যখন ওই যুবতী অন্যমনস্কভাবে মাছ ধরছিলেন তখন আচমকাই ঠিক তার সামনের জলে একটি কুমিরের মাথা দেখা দেয়।

যুবতীর মা ভিডিও করতে করতেই তৎক্ষণাৎ কুমিরটিকে দেখতে পান এবং যুবতীকে সরে আসতে বলেন। সাথে সাথেই সে সরে আসে একেবারে পেছনের দিকে। যদিও কমিটি সাথে সাথেই জল থেকে সরে যায়। তবে মাত্র এই কয়েকটি মুহূর্তেই কিন্তু শিহরিত হয়ে পড়েছেন সকলে। যে কোন মুহূর্তেই যে কুমিরের আক্রমণের মুখে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো এই দুই মহিলার সাথে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সবকিছু জানা সত্ত্বেও জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে যেভাবে তারা ওই ভয়ঙ্কর জায়গায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার ব্যাপার।

কমবেশি এ অঞ্চলের সকল মানুষই কিন্তু মাছ ধরা থেকে শুরু করে এই জাতীয় কাজে দক্ষ। এই যুবতীকে দেখেও আমরা সে কথাই বলতে পারি। পাশাপাশি সুন্দরবনের মতন এই জায়গাতে কুমির আর বাঘ জাতীয় পশু থাকা সত্ত্বেও যেভাবে এই যুবতী সাহসিকতার সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সেটাও উল্লেখ করার বিষয়।

জানা যাচ্ছে এই সুন্দরী যুবতীর নাম প্রিয়া। সুন্দরবনেরই বাসিন্দা এবং এখানকার আরো নানান ভিডিও আপনারা কিন্তু তার চ্যানেলে চোখ রাখলেই দেখতে পারবেন। আজকের আলোচ্য ভিডিওটি প্রায় তিন দিন আগে শেয়ার করা হয়েছে যা এখনো পর্যন্ত দেখে নিয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। অনেকেই কমেন্ট বক্সে ওই যুবতীর সাহসের প্রশংসা করেছেন এবং তাকে সুস্থ থাকার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।।

Back to top button