ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ! অকালেই প্রয়াত দাদাগিরি খ্যাত মোহনবাগানের একনিষ্ঠ ভক্ত অনির্বাণ নন্দী

নিজস্ব প্রতিবেদন: সোশ্যাল মিডিয়া বা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু প্রায় সময় আমাদের অনেক নতুন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সাহায্য করে থাকে। এরকমই একজন মানুষ হলেন অনির্বাণ নন্দী। জি বাংলার দাদাগিরি অনুষ্ঠানের যারা নিয়মিত দর্শক তারা সকলেই কিন্তু কম বেশি এই ব্যক্তিকে চিনবেন।। তিনি এই অনুষ্ঠানে এসে দক্ষতার সঙ্গে শুধুমাত্র প্রতিযোগিতায় লড়েছিলেন তাই নয়, বিজয়ী হয়েছিলেন।

সবথেকে বড় ব্যাপার তিনি একজন ভীষণ বড় খাদ্য রসিক আর ফুটবলপ্রেমী। এমনকি তার খাদ্য তালিকা শুনে দাদাগিরির মঞ্চে উপস্থিত সমস্ত দর্শকদের পাশাপাশি স্বয়ং সৌরভ গাঙ্গুলী পর্যন্ত অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মূলত সৌরভ গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় দাদাগিরির অনুষ্ঠান থেকেই পরিচিতি পান অনির্বাণ। তার কথা বলার ভঙ্গিমা থেকে শুরু করে সরলতা সহজেই সকলের মন জয় করে নিয়েছিল।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ফুটবলপ্রেমী এই মানুষটি হয়ে উঠেছিলেন দর্শকদের কাছের মানুষ। বহুবার দাদাগিরির মঞ্চে দেখা দিয়েছেন তিনি। আম বাঙালির মনে এই মানুষটির জন্য যেন একটা আলাদাই জায়গা ছিল। রীতিমতন কট্টর মোহনবাগান সমর্থক ছিলেন অনির্বাণ। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানানো হচ্ছে যে তিনি আর এই পৃথিবীতে নেই। হয়তো এই খবরটি শোনার পরে কয়েক সেকেন্ডের জন্য আপনারাও অবাক হয়ে গিয়েছেন। তবে মানুষের জীবন তো আর আমাদের হাতে থাকে না।

ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছিলেন অনির্বাণ নন্দী। কয়েক মাস আগে তার মা ও পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। হাসিমুখে থাকলেও বারংবার মায়ের স্মৃতিচারণ তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের প্রতি চোখ রাখলেই কিন্তু আপনারা বুঝতে পারবেন। আগেই তার কিডনির অসুখের কথা জানতে পেরেছিলেন সকলে। নতুন করে তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা জরুরী হয়ে পড়েছিল। তবে তার জন্য যা খরচ হতো সেটা তার পক্ষে অনেকটাই বেশি। তাই সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক মানুষের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনির্বাণ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তার পোস্ট দেখে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়েও এসেছিল তাকে বাঁচানোর লক্ষ্যে। তবে আচমকাই যেন সব চেষ্টাই ব্যর্থ। সকলকে অবাক করে রেখে দিয়ে অকাল প্রয়াণ হল এই সদা হাসিখুশি থাকা মানুষটির। দুর্গাপূজো শেষে দ্বাদশীর দিন আচমকাই অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এরপরেই তিনি সকলকে ছেড়ে পরলোকের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। সদাহাস্য ফুটবলপ্রেমী এই মানুষটির অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন নেটিজেনরা।

Back to top button