ছাদে বা উঠোনে থাকা চন্দ্রমল্লিকা গাছের গোড়ায় রোজ দিন এই একটি ঘরোয়া উপাদান, মাত্র কয়েকদিনেই গাছ ভরে উঠবে ফুলে

নিজস্ব প্রতিবেদন: ফুলেদের মধ্যে সৌন্দর্যের বিচারে চন্দ্রমল্লিকাকে একেবারে প্রথম সারিতে রাখা যায়। বাগানপ্রেমী বহু মানুষ কিন্তু বাড়িতে চন্দ্রমল্লিকা চাষ করে থাকেন। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা চন্দ্রমল্লিকা গাছের এমন কিছু খাবারের কথা বলব যা সঠিকভাবে যদি আপনারা প্রয়োগ করতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনার বাড়িতে থাকা গাছ কিন্তু সহজেই ফুলে ভরে যাবে।

যারা বাগানপ্রেমী মানুষ রয়েছেন এবং চন্দ্রমল্লিকা গাছ পছন্দ করেন অবশ্যই প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত চটজলদি পড়ে ফেলুন। জুন —জুলাই মাস নাগাদ সাধারণত চন্দ্রমল্লিকা গাছ রোপন করলে ভালো হয়। তবে অনেকেই কিন্তু জুন থেকে শুরু করে মোটামুটি নভেম্বর মাস পর্যন্ত চন্দ্রমল্লিকা চারা লাগিয়ে থাকেন।

চন্দ্রমল্লিকা গাছের খাবার হিসেবে সপ্তাহে একদিন সরষের খোল ভেজানো জল আপনাদের প্রয়োগ করতে হবে। এই উপকরণের মধ্যে নাইট্রোজেনের পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে। নাইট্রোজেন গাছকে তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এই গাছের মধ্যে আপনাদের প্রয়োগ করতে হবে ফসফরাস জাতীয় খাদ্য। রাসায়নিক পদ্ধতিতে ডিএপি সারটিও আপনারা সরষের খোল এর মধ্যে ভিজিয়ে দিতে পারেন।

তাহলে এই ডিএপি সারের মাধ্যমে গাছ কিন্তু সমস্ত ধরনের উপাদান সহজেই পেয়ে যাবে। গাছের মধ্যে আপনারা অর্গানিক পদ্ধতিতে খাদ্য উপাদান প্রয়োগ করতে চাইলেন নিম খোল, হাড়ের গুঁড়ো,সিং কুচি প্রভৃতি প্রয়োগ করতে পারেন খুব সহজেই। এমনকি এই সমস্ত উপকরণ একসাথে মিশিয়ে একটা মিক্স খাবার তৈরি করেও কিন্তু দিতে পারেন।।

চারা লাগানোর সময় আপনাদের এই মিক্স খাবারটা প্রয়োগ করতে হবে যাতে গাছটি অর্গানিক পদ্ধতিতেই বেড়ে উঠতে পারে। রাসায়নিক পদ্ধতিতেও আপনারা গাছের চারা বড় করে তুলতে পারেন তবে অবশ্যই সেক্ষেত্রে কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে। অবশ্যই আপনাদের পরিমাপ বজায় রেখে রাসায়নিক সার দিতে হবে না হলে গাছের ক্ষতি হতে পারে। চন্দ্রমল্লিকা গাছের পরিচর্যা খুবই সাধারণ শুধুমাত্র সময় মতন খাদ্য দিলেই কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ফুল আসবে। তবে সব সময় এক খাদ্য দেওয়া যাবে না, মাঝে মাঝে নিয়ে আসতে হবে কিছু পরিবর্তন।

যদি আপনারা ডিএপি প্রয়োগ করে থাকেন সেক্ষেত্রে গাছ একটু বড় হয়ে উঠলে আপনাদের প্রয়োগ করতে হবে ১০:২৬:২৬ । এই সারটি পাঁচ থেকে ছয় দানা করে প্রত্যেক গাছে প্রয়োগ করে দেবেন।গাছ যদি ছোট টবের মধ্যে লাগানো হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু খুব বেশি সারের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী চন্দ্রমল্লিকা গাছে জল দেবেন খুব বেশি কিন্তু প্রয়োগ করবেন না। যদি আঙ্গুল দিয়ে দেখেন টবের উপরের মাটি শুকিয়ে এসেছে তবেই জলের প্রয়োগ করবেন।

গোড়ার মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে কখনোই খাদ্য সরাসরি প্রবেশ করতে পারে না। তাই অবশ্যই গোড়ার মাটি মাঝে মাঝে একটু খুঁচিয়ে আলগা করে নেবেন। ব্যস এই কয়েকটি পরিচর্যা করলেই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে আপনার বাড়িতে থাকা চন্দ্রমল্লিকা ফুলের গাছ ঝড়ের গতিতে বেড়ে উঠবে এবং ফুল দেবে। এই বিশেষ টিপস কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Back to top button